kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

একটি সময়োপযোগী নির্দেশনা

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়সাশ্রয়ী হতে হবে

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




একটি সময়োপযোগী নির্দেশনা

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণে সবাইকে আরো সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে একটি পয়সাও ‘অহেতুক খরচ’ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। করোনাভাইরাস মহামারিকালে যখন সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মুখে, তখনই সরকারের ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এলো। একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ব্যয় কমাতে এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় নতুন গাড়ি কেনা স্থগিত করা হয়েছে। কৃচ্ছ্র সাধন করতে এরই মধ্যে উপসচিবদের গাড়ি কেনার সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। আরো অনেক খাত আছে, যেখান থেকে টাকা সাশ্রয় করা যেতে পারে। যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশভ্রমণ, বিমান ভাড়া, হোটেলে থাকা-খাওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গেলে সম্মানী দেওয়া হয়; জ্বালানি খরচও কম নয়। এসব খাত থেকেও টাকা সাশ্রয় করা যেতে পারে।

সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন থেকেই বলা হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নেওয়া কর্মসূচির অনেকটা অর্থই চলে যায় সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠীর কাছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা নিয়ে এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠী নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটালেও যাদের জন্য বরাদ্দ আসে, তারা থেকে যায় আগের অবস্থায়ই। প্রকল্পের নামে এভাবে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে অভিযোগও অনেক পুরনো। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের পকেট ভারী করতে ও দলের লোকদের কর্মসংস্থান করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা লুটপাটে অংশ নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। বাস্তবে কোনো উন্নয়নকাজ হয় না। ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্প দাখিল করা হয়। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তল্পিবাহকদের যুক্ত করা হয়। এভাবে দলীয় নেতাকর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পকেট ভারী হয়। কিন্তু বাস্তবে উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও কোথাও লাগে না।

এই মহামারিকালে আমাদের তাই ব্যয়সাশ্রয়ী হতে হবে। বিশ্ব আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী নির্দেশনা মেনে অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করা হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা