kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। পানিবন্দি মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীরে ধীরে কমলেও ধরলা নদীর পানি বাড়ছে। পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় নতুন করে তলিয়েছে শেরপুরের জনপদ। যমুনা নদীর পানি অনেকটা কমলেও এখনো তা বিপত্সীমার ওপরে। জিঞ্জিরাম, ঝিনাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের চারটি নদী অববাহিকায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যার পানি একযোগে বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম ও জামালপুর হয়ে পানি ব্রহ্মপুত্র দিয়ে দ্রুত বাড়বে। এতে উত্তরাঞ্চলসহ মানিকগঞ্জ পর্যন্ত পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাট থেকে রংপুর পর্যন্ত বন্যার পানি বাড়তে পারে। উজানের পানি নেমে এখন দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিয়েছে। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপত্সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের ছয় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও মধ্যাঞ্চলের ছয় জেলায় পরিস্থিতির অবনতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বর্ষা এলেই বন্যায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে, ঘটবে ফসলহানি, নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে—এ যেন বাংলাদেশের অবধারিত চিত্র। বর্ষার শুরু থেকেই এ চিত্র প্রতিবছরের। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এ বছরের বন্যা পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। এরই মধ্যে দেশের যেসব জেলায় বন্যা শুরু হয়েছে, সেখানে পানিবন্দি মানুষ গাদাগাদি করে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক, রেললাইনসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

এখন জরুরি হচ্ছে দেশের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে খাদ্য, নিরাপদ পানিসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। বিবেচনায় রাখতে হবে বন্যাদুর্গত দরিদ্র মানুষের জীবিকার বিষয়টিও।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা