kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বাজেট বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বিগত অর্থবছরের শেষ দিন মঙ্গলবার। অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে বড় আর কোনো পরিবর্তন ছাড়াই গত সোমবার পাস হয় অর্থ বিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করেন। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার বাজেট অধিবেশন ছিল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। এবার সম্পূরক বাজেটের ওপর এক দিন আলোচনা করে সেদিনই তা পাস করা হয়। মূল বাজেটের ওপর আলোচনা হয় দুই দিন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় খুব বেশি না বাড়িয়ে দুই লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা বিদায়ি অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৬.২৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, যা নিয়ম অনুযায়ী আগেই অনুমোদন করা হয়েছে। এবার পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা, যা বিদায়ি অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচের বিষয়টি। তীব্র সমালোচনা হলেও বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি পরিবর্তিত হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, দালান নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষী বললেও অতীতের মতো এই বাজেট বাস্তবায়নেও সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অর্থনীতিতে কভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বাজার ঊর্ধ্বমুখী। কারণে-অকারণে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। নতুন কর্মসংস্থান নেই। করোনাকালে বেড়েছে বেকারত্ব। এ দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের লোকজনই জনসংখ্যার বেশির ভাগ। উভয় শ্রেণির মানুষের আয় কমেছে। এ অবস্থায় দেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়াই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা