kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বড় সেশনজটের শঙ্কা

পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

২৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংক্রমণের এ সময়ে স্বাভাবিক পড়াশোনায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। সে সমস্যা কিছুটা লাঘব করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বা পাঠ দিচ্ছে। তবে সেটা শ্রেণিকক্ষে পাঠের যথাযথ বিকল্প নয়। অনলাইনে বা টিভি সম্প্রচারে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট রাখা হয়তো সম্ভব হচ্ছে; কিন্তু করোনাকালে শিক্ষাকার্যক্রম যে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে তা অস্বীকার করা যায় না। উচ্চশিক্ষার ৩২ লাখ শিক্ষার্থীর ২৮ লাখই এখনো পড়ালেখার বাইরে। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১৭ মার্চ থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে উচ্চশিক্ষায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ৬ আগস্টের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা তেমন নেই। ফলে ছুটি আরো বাড়তে পারে। এর ফলে বড় রকমের সেশনজটজনিত সমস্যায় পড়তে হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করছে প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় তিন লাখ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়ন করছে সাড়ে ২৪ লাখ শিক্ষার্থী। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষার্থী। করোনাকালে শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোকে অনলাইনে ক্লাস শুরুর তাগিদ দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি কলেজগুলোতে অনলাইনে ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বড় বড় কিছু সরকারি কলেজ ছাড়া অন্যরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করতে পারেনি। কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগ অনলাইনে শতভাগ শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে। এই হচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি।

সময় গড়াচ্ছে, বিকল্প ভাবনা ভাবতে হবে বৈকি। কিছু বাস্তব সমস্যা অবশ্যই আছে, যেমন—বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর গ্রামে-মফস্বলে অবস্থান করা, অনলাইন ক্লাসের সামগ্রী সংকট, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, কিছু শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন না থাকা প্রভৃতি। সরকারের যে বাস্তব এবং ইন্টারনেট অবকাঠামো রয়েছে তাতে এখন আর এ সমস্যা থাকার কথা নয়; বরং বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে ক্লাস নিতে অনীহা এবং ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা।

শিক্ষাঙ্গনকে সেশনজটের সমস্যা থেকে রক্ষার জন্য শিক্ষা বিভাগকে তৎপর হতে হবে; সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পুরোদমে চালাতে হবে। অবস্থা বুঝে উপায় অবশ্যই বের করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা