kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

আম্ফানে ফসলহানি

বাঁধ মেরামতে দৃষ্টি দিন

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইলা-সিডর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে, তার প্রতিটিই স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই যুগ যুগ ধরে টিকে আছে। একেকটি দুর্যোগ আসে, চলেও যায়। কিন্তু যে ক্ষতি করে রেখে যায়, তা আর পূরণ হয় না। জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে, তখন উপকূলে সবচেয়ে বড় যে ভয়টি কাজ করে সেটি হচ্ছে বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ঢুকে পড়ে জনপদে স্থায়ী ক্ষতি করে দেওয়া। আর উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোও ভালো অবস্থায় নেই। স্বাভাবিকভাবেই এবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতের আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল যে জোয়ারের উচ্চতা ঠেকানোর মতো অবস্থায় বাঁধগুলো না-ও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদেরও ভয় ছিল বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ভেতরে ঢুকবে। একবার নোনা পানি ঢুকে গেলে এটা যতক্ষণ ভেতরে অবস্থান করবে ততক্ষণ মাটিকে দূষিত ও লবণাক্ত করবে। উপকূলীয় বাঁধগুলো, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট অঞ্চল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে। আইলার পর কয়রা থানায় যেসব জায়গায় বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ঢুকেছিল, সেগুলো জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। বহু জায়গায় বাঁধ অত্যন্ত দুর্বল। সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের বহু জায়গায় নদীভাঙনের কারণে নদী একেবারে বাঁধের কিনারে চলে এসেছে। অনেক জায়গায় বাঁধের অর্ধেকের বেশি ভেঙে গেছে। আম্ফানের পর দেখা যাচ্ছে, খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার অনেক জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে অনেক এলাকা। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, কয়রা সদর, মহারাজপুর, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন ও পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা এখনো পানির নিচে। পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামের বাওয়ালি বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙেছে চার জায়গায়। সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতায় ৮০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সব সময় ঝুঁকিতে থাকে। আম্ফানে সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গবুরা, পদ্মপুকুর ও আশাশুনির শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এখন আমাদের করণীয় কী? যেসব জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করতে হবে। আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তৎপর হবে।

মন্তব্য