kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

সর্ববৃহৎ করোনা হাসপাতাল

দেশের স্বার্থে বসুন্ধরা অগ্রণী হয়ে থাকুক

১৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ঢাকায়। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এটি উদ্বোধন করা হয়েছে গত রবিবার। আপাতত এটি অস্থায়ী ভিত্তিতে চলবে। দুই হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতালটির নাম ‘বসুন্ধরা কভিড-১৯ আইসোলেশন হাসপাতাল’। করোনা সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বসুন্ধরা গ্রুপ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাত্র ২১ দিনে এ হাসপাতাল তৈরি করেছে। দেশে এটি দ্রুততম সময়ে বড় স্থাপনা নির্মাণের দৃষ্টান্ত।

হাসপাতাল উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ এপ্রিল হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাত্র তিন সপ্তাহে এত বড় হাসপাতাল নির্মাণ এ দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ময়কর কাজ বটে। হাসপাতালে ছয়টি ক্লাস্টারে এক হাজার ৪৮৮টি শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে আরো ৫২৫টি শয্যা থাকছে। এর বাইরে ৪ নম্বর হলে ৭১ শয্যার আইসিইউ। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থাও থাকবে এই স্থাপনায়। ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে’ স্লোগান নিয়ে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান দেশের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর একটি দল প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ হাসপাতাল নির্মাণ অবশ্যই প্রশংসনীয় একটি কাজ। দেশের দুর্যোগে বসুন্ধরা গ্রুপের এগিয়ে আসা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এবং বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জন্য ২০০ শয্যা সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব করেছেন। দেশের এ দুর্যোগকালে সাংবাদিকরা বিশেষ করে প্রতিবেদকরা সম্মুখবর্তী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক। আক্রান্ত হলে তাঁদের পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এ প্রস্তাব খুবই বিবেচনাপ্রসূত। তিনি বলেছেন, কভিড হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা যত দিন চাইবে তত দিন এ স্থাপনা দেশ ও দশের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে। বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের কল্যাণে নিয়োজিত আছে।

কিছুদিনের মধ্যেই কভিড রোগীদের এ হাসপাতালে ভর্তি করা শুরু হবে। হাসপাতাল নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রেখে বসুন্ধরা গ্রুপ নিঃসন্দেহে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ামক ভূমিকা অব্যাহত থাকুক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা