kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সময়ের নায়ক চিকিৎসকরা

তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিন

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চেম্বারে যাচ্ছেন না, আগে যেসব বেসরকারি হাসপাতালে তাঁরা পরামর্শ দিতে যেতেন সেখানে এখন যাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ নিত্যদিন শোনা যাচ্ছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, যেমন—চিকিৎসকরা রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছেন, হাসপাতালে থাকছেন না। অভিযোগগুলো অমূলক নয়। অনেক রোগী হাসপাতালে হাসপাতালে, ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছে না, অনেকে চিকিৎসার আশায় ঘুরতে ঘুরতে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে, গণমাধ্যমে এমন খবর প্রায়ই প্রকাশিত-প্রচারিত হচ্ছে। ‘অতি তত্পর’ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো এখন প্রায় তৎপরতারহিত। চিকিৎসা ধর্মে এমন আচরণ গ্রাহ্য নয়। মানুষকে রক্ষার মন্ত্রেই তাঁরা দীক্ষিত। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, চিকিৎসক নেতা সবাই এ প্রবণতা দূর করার চেষ্টা করছেন; সেবাদানে অনীহ চিকিৎসকদের সেবাধর্মে ফেরাতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

কিন্তু সব চিকিৎসকই সুসময়ে বাণিজ্য-তত্পর ও দুঃসময়ে গাঢাকা দিয়ে থাকা উপর্যুক্ত চিকিৎসকদের মতো নন। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত না থেকেও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন এক দল সেবাব্রতী স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক। ঢাকাসহ সারা দেশে দিন দিন তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। তাঁরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। কেউ ফোনে চিকিৎসা দিচ্ছেন মানুষকে, কেউ কাজ করছেন উপসর্গ জানতে, কেউ বা নমুনা বিশ্লেষণের কাজে জড়িত হয়েছেন। আবার অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছেন সম্ভাব্য করোনা রোগীদের সরাসরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি চিকিৎসকদের সঙ্গে এই স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং আরো কিছু চিকিৎসাব্রতী সংগঠন এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদের তালিকা তৈরি করার কাজে। এর মধ্যে বড় একটি স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদল প্রস্তুত হয়েছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

মানুষের বিপন্নতার কালে যাঁরা ‘গাঢাকা’ দিয়েছেন তাঁরা আসলে চিকিৎসকের সেবাধর্ম অমান্য করছেন। কিন্তু তাঁদের বিপরীত স্বভাবের চিকিৎসকও রয়েছেন প্রচুর। এর মধ্যে কয়েক হাজার দক্ষ চিকিৎসক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সরাসরি স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় কন্ট্রোল রুমে যুক্ত থাকার জন্য ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকের একটি তালিকা হয়েছে। তাঁরা এর মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আরো অনেকে স্বেচ্ছাসেবকদলে যুক্ত হতে চাইছেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসকরাও হটলাইনে মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। রাষ্ট্র এই নমস্য চিকিৎসকদের সুরক্ষার ও উপকরণ সহায়তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে বলে আমরা আশা করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা