kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

বসুন্ধরার অনন্য উদ্যোগ

অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বসুন্ধরার অনন্য উদ্যোগ

ক্রান্তিকালে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে সহায়তার অংশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাকে হাসপাতালে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপটি। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের এসংক্রান্ত একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর করোনা মোকাবেলার তহবিলে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। লিখিত প্রস্তাবে রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরার চারটি কনভেনশন সিটি ও একটি ট্রেড সেন্টারকে হাসপাতালে রূপান্তরের কথা বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন বলে তাঁর কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর দুই হাজার নিম্নবিত্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও সহযোগিতা করবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই প্রতিষ্ঠান।

দ্রুত সংক্রমণশীল এই ভাইরাস এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৭টি দেশে ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাত লাখেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ৩৪ হাজারের কাছাকাছি। আইইডিসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন, মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে কভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, তা সবার জন্যই আতঙ্কের। সব দেশকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোগটি একেবারেই নতুন। চিকিৎসকদেরও এ রোগ সম্পর্কে জানাশোনা সীমিত। রোগটির কোনো প্রতিষেধক কিংবা ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। সর্বোপরি কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে যে সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা একেবারেই অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা এর আগে কখনো এ ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়নি। ফলে দেখা যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমে গেছে। আবার চিকিৎসকরাও ভয়ে রোগীর কাছে যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ আছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ, উপসর্গসহ চিকিৎসা পেতে আগ্রহী মানুষের সংশয় কাটছে না। বরং প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া ও পরীক্ষা করাতে না পারার খবর আসছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই অভিযোগ উঠছে পরীক্ষা কম হওয়ার। দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা না পাওয়ার খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

এই সংকটকালে রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরার চারটি কনভেনশন সিটি ও একটি ট্রেড সেন্টারে হবে এই পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল। এগুলো বানাতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা এককথায় অনন্য। আমরা আশা করব, এই উদাহরণ সামনে রেখে দেশের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী করোনা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা