kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সুনসান রাজধানী ঢাকা

জননিরাপত্তায় যেন বিঘ্ন না ঘটে

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে সুনসান রাজধানী ঢাকা। অফিস-আদালত বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আরো আগেই। পাড়া-মহল্লায় কোলাহল নেই। হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পাড়ার ফাঁকা রাস্তায় শিশু-কিশোররা খেলায় মেতে ওঠে। অভিভাবকদের সাবধানতার কারণে এখন শিশুরাও ঘরে অবস্থান করছে। গণপরিবহন বন্ধ। রাস্তায় যানজট নেই। ফুটপাত জনশূন্য। বিশেষ জরুরি কোনো কাজ ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে যেতে দেখা যাচ্ছে না। অলিগলিতে হাতে গোনা কিছু ওষুধ ও মুদি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মেনে দেশের বেশির ভাগ মানুষই এখন ঘরে থাকছে। ঝিমিয়ে পড়া জনজীবনে গৃহবন্দি এসব মানুষ এখন ঘরের বাইরে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে কারো কারো মনে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবাই ঘরে থাকায় অপরাধের শঙ্কা কম। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ফোন কমে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেছেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তায় র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন সচেষ্ট রয়েছে।

এটি ঠিক যে এই সময়ে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ-র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও দেশের অন্যান্য স্থানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হবে। গতকাল শুক্রবার ভোরে সাতক্ষীরায় এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলার এক আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ বলছে, দুই দল সন্ত্রাসীর গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। আবার এই সময়ে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা যেন কোনোভাবেই বেড়ে না যায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।

দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তার পরও তো মানুষকে ঘর থেকে বের হতে হয়। এই সময়ে মানুষের মনে অজানা আশঙ্কা ভর করে। আর সে কারণেই নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ ছুটির মাত্র দুই দিন গেছে। আরো আট দিন মানুষকে ঘরে থাকতে হবে। সামনের দিনগুলো সবার জন্য নিরাপদ হোক—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা