kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই

সম্মিলিত চেষ্টার বিকল্প নেই

২২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




করোনার বিরুদ্ধে লড়াই

কভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিশ্বজুড়েই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ মানুষ। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া কভিড-১৯ রোগে সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে আড়াই লাখ মানুষ। করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বের প্রায় সব দেশে জনসমাগম নিষিদ্ধ, বিমান চলাচল বন্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি, নাগরিকদের ঘরে আবদ্ধ রাখাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত আরো একজন মারা গেছে; আক্রান্ত হয়েছে আরো চারজন। এ নিয়ে নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়াল। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪। গত শুক্রবার বিকেলে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে কালের কণ্ঠ ও ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজের যৌথ উদ্যোগে সীমিত পরিসরে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, করোনার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে।

নতুন করোনাভাইরাসের বিশেষত্ব হলো ভাইরাসটি মানুষের মাধ্যমে ছড়ায়। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁকে যেমন কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়, তেমনি আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে কেউ এলে তাকেও মেনে চলতে হবে নিয়ম। এর ব্যতিক্রম ঘটলে যে বিপর্যয় অনিবার্য তারও উদাহরণ আছে। বিদেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসটি এসেছে প্রবাসীদের মাধ্যমে। এদের অনেকেই করোনার লক্ষণ নিয়ে দেশে এসেছিলেন। কেউ কেউ অবাধে সমাজে মেলামেশা করেছেন। হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মেনে চলেননি। ফল দাঁড়িয়েছে এই যে তাঁদের স্বজনরাই সংক্রমিত হয়েছেন। মনে রাখা দরকার, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশও সেই একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সবার আগে ব্যক্তিকেই উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে টার্গেট একটাই, মানুষকে আতঙ্কিত হতে দেওয়া যাবে না। গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেই বলেছেন, ঢালাও পরীক্ষা করার মতো অবস্থা আমাদের নেই। বিশ্বের কোনো দেশেরই নেই। তাই যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছেন তাঁরা কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। যদি লক্ষণ দেখা দেয় পরীক্ষা করবে। অথবা তাঁর পরিবার বা তাঁর সঙ্গে মিশেছে এমন কারো লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে কোনো করোনার রোগী ছিল না। বিদেশফেরত এবং তাঁদের মাধ্যমে তাঁদের স্বজনরা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, এখনো কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েনি। এমনটা হওয়ার আগেই সব ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো বিপদ বাড়তে পারে। আর তাই প্রতিরোধ গড়তে হবে সম্মিলিতভাবে।

প্রতিরোধটি কী? সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে হবে। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া চলবে না। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় বাংলাদেশ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হবে—এমনটি আশা করাই যায়। আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা