kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে

বিনিয়োগ আরো সহজ করা হোক

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুঁজিবাজারের দৈন্যদশা কাটেনি। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে বড় উত্থান ঘটেছিল। কিন্তু এরপর আবার টানা পতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। অর্থাৎ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে আস্থা রাখতে পারছে না। এর কারণটিও স্পষ্ট। কোনোভাবেই পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের সঞ্চয় যাওয়ার কথা ব্যাংকে। কিন্তু সেখানেও বেঁধে দেওয়া হয়েছে সুদের হার। স্পষ্টতই দেশে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের জায়গা কমে আসছে। কাজেই মানুষের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই সঞ্চয়পত্র ছাড়া। ফলে সঞ্চয়পত্রেই আবার বিনিয়োগ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা, মুনাফায় উৎস কর বৃদ্ধি এবং অপ্রদর্শিত অর্থে ক্রয় প্রতিরোধ করাসহ নানা রকম কড়াকড়ি আরোপে প্রতি মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কড়াকড়ি আরোপ করায় এবং মুনাফার ওপর করের হার বাড়ায় অনেকেই সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এখন মানুষ যখন দেখছে, অন্য যেকোনো বিনিয়োগের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফা বেশি, ঝুঁকি নেই। সে কারণেই আবার সবাই সঞ্চয়পত্রই কিনছে। উল্লেখ্য, বিক্রির চাপ কমাতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎস করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরো কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কমতে শুরু করে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি। তবে আগামী ১ এপ্রিল ব্যাংক আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ করার ঘোষণায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কিছুটা বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রের মোট ও নিট বিক্রির চিত্র সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে সাত হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। এটি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া এ মাসে মূল্য পরিশোধের পর নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৪০ কোটি টাকা। যদিও এটি গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ কম। এতে নতুন করে আবার প্রমাণিত হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয় তথা বিনিয়োগের নিরাপত্তা চায়।

নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে দিতে হবে নিশ্চয়তা। কিছুদিন আগে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নিয়ে কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হয়েছিল সাধারণ মানুষ। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করে ডাকঘরে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে আগের সুদহার বহাল রাখার খবর দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ ও সঞ্চয়মুখী হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা