kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আবার মানবপাচার!

জড়িতদের কঠোর শাস্তিই কাম্য

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার মানবপাচার!

কয়েক বছর আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর সময় কয়েক শ বাংলাদেশির সলিলসমাধির ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। একই রকম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল থাইল্যান্ডের জঙ্গলে শত শত বাংলাদেশির গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর। ২০১৫ সালে ৬০০ যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার আটক করেছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ থাকার পর নতুন করে শুরু হয়েছে নৌপথে মানবপাচার। এবার টার্গেট করা হয়েছে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। গত মঙ্গলবার ভোরে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের একটি নৌকা ডুবে ১৫ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে। কাঠের তৈরি ইঞ্জিনচালিত ছোট আকারের নৌকাটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছে উদ্ধারপ্রাপ্ত লোকজন। যাত্রীদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা এবং তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। নৌকার ৭২ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অর্ধশত নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। জীবিত উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চার দালালও রয়েছেন, যাঁদের দুজন বাংলাদেশি। তাঁদের আটক করা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, টেকনাফ উপকূলের বাহারছড়া এলাকা থেকে নৌকাটি যাত্রা করেছিল। মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাবোঝাই আরো দুটি নৌকা ওই নৌকাটির সঙ্গে প্রায় একই সময়ে রওনা দেয়। ওই দুটি নৌকার হদিস জানা যায়নি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দেশের মানবপাচারের অন্যতম রুট কক্সবাজার। ২০১২ সাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপকূল দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি মানবপাচারের ঘটনা ঘটে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। একপর্যায়ে মানবপাচার উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়েই ঠেকেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দুই বছর ধরে সেটি হ্রাস পেলেও সম্প্রতি সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় এলাকার মানবপাচারকারী চক্র হঠাৎ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধান বলছে, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়াটিই হচ্ছে মানবপাচারের অন্যতম এলাকা। পাড়ার সহস্রাধিক বসতির বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েকটি সিন্ডিকেট রোহিঙ্গা পাচারকারীদের সঙ্গে মিলেমিশে তাদের মালয়েশিয়ায় পাচার করে আসছে।

‘বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের সবার বোধোদয় হওয়া উচিত’—এ মন্তব্য করে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এক বিবৃতি দিয়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর সেভাবে বড় ধরনের কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি। অন্যদিকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় তারা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন আদালতে ৩৯৮টি মানবপাচার মামলা বিচারাধীন। পুলিশ বলছে, মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার মানবপাচারে জড়াচ্ছে। এবার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে টেকনাফ থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোস্টগার্ড। পুলিশ এ পর্যন্ত আটজন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। অতীতের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি পাচারে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা