kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

যশোরে গণপিটুনিতে মৃত্যু

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হতে হবে

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরে গণপিটুনিতে মৃত্যু

খবরটি শুধু যে আতঙ্কের, তা নয়। বিস্তারিত বিশ্লেষণে গেলে আরো অনেক উপাদান বেরিয়ে আসবে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, গত ২১ দিনে যশোর জেলায় গণপিটুনিতে ছয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই অভয়নগর উপজেলায় মারা যায়। বাকি একজনকে হত্যা করা হয় ঝিকরগাছা উপজেলায়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর হচ্ছে, গত শুক্রবার ভোররাতে যশোরের অভয়নগরে ভ্যানচোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই থানায় গত ৪ জানুয়ারি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে নিহত হয় একজন। গত ১৩ জানুয়ারি ভোররাতে গরুচোর সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি গণপিটুনিতে নিহত হয় একজন। 

দেশে প্রচলিত আইন-আদালত আছে। আছে সক্রিয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাহলে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে কেন মানুষ? এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আস্থা হারিয়ে লোকজন এমন ঘটনা ঘটালেও এর মধ্য দিয়ে আরো বড় রকম বেআইনি কাজ করা হচ্ছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা আরো বাড়বে। যশোরের মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, মানুষের নৈতিক অধঃপতনের কারণে এমন ধরনের ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যশোরের ঘটনাগুলোর দিকে তাকিয়ে এখন বোধ হয় ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ-প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সামান্য কারণেই যখন খুনের ঘটনা ঘটছে তখন বলতে হবে, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এটা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। সমাজ কেন দিনে দিনে এমন পরিণতির দিকে যাচ্ছে? একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে, দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় যে দীর্ঘসূত্রতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা শান্তিকামী মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে আর অপরাধীদের জন্য এনে দিচ্ছে বিশেষ সুবিধা। অনেক অপরাধী আইনের ফাঁক গলে যেমন বের হয়ে যায়, তেমনি দুর্বল অভিযোগপত্রও অনেক অপরাধীকে সহজে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীচক্র ফিরে আসে জনপদে। নতুন করে সক্রিয় হয় অপরাধে।

আবার এটাও ঠিক যে সমাজের কিছু মানুষ যেন দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতার রাজনীতিও কাউকে কাউকে প্রতাপশালী করে তুলছে। এমনটি চলতে থাকলে শিগগিরই যে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যায়, এক অস্থির ও অসহিষ্ণু সময় পার হচ্ছি আমরা। সামাজিক অসহিষ্ণুতাও অপরাধপ্রবণতার পাশাপাশি আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনার জন্য দায়ী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সক্রিয় হতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা