kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কার্যকর সিটি করপোরেশন কতদূর

নগর সরকারের বিষয়টি বিবেচনা করুন

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কার্যকর সিটি করপোরেশন কতদূর

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার চলছে। প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই নতুন করে সামনে চলে এসেছে নগর সরকারের বিষয়টি। দুই সিটির মেয়র প্রার্থীরাও একটি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার কথা বলছেন। তাঁরা মানছেন, মূল নগর সরকার গঠন করতে পারলে রাজধানীর অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করার এ প্রস্তাব কখনোই কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন পায়নি। সাত মন্ত্রণালয়ের যে ৫৪টি সংস্থা রাজধানীতে কাজ করছে, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। তাদের ওপর সিটি করপোরেশনের আইনি কর্তৃত্বও নেই। গত বুধবার সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী নগর সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সিটি করপোরেশনের হাতে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে তা যথেষ্ট, তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই? নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংবিধান স্থানীয় শাসনের ভার স্থানীয় সরকারকে দিলেও আদতে তা নেই। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার কখনোই স্বায়ত্তশাসিত ছিল না, এখনো নয়। বরাবরই এটি কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ক্ষমতা আরো কম।

ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ সিটি করপোরেশনকে স্বায়ত্তশাসিত করতে নগর সরকার গঠনের দাবি তুলেছিলেন। চট্টগ্রামের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীও একই দাবি জানিয়েছিলেন। নগরীতে সেবাদানকারী সব সংস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নগর সরকারের অধীনে আনার প্রস্তাব করেছিলেন তাঁরা। আমরা বহির্বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ উন্নত দেশগুলোতে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর গঠনের জন্য নগর সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ শতাংশ লোক নগরে বসবাস করে। সেখানে পুলিশ থেকে শুরু করে নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ, স্বাস্থ্য, আবাসন, চিত্তবিনোদন ও পাবলিক পরিবহনের মতো সব সেবামূলক কাজ নগর সরকারের অধীনে ন্যস্ত। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকার চালু হলে একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিদ্যুৎ, পানি, গৃহনির্মাণ, এমনকি পুলিশি ব্যবস্থাও দেখভাল করবে একই কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স এবং কানাডার নগর সরকার আদলে আমাদের দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে অবিলম্বে সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নগর সরকারের অধীনে থাকলে এসব কাজের সমন্বয় বিধানের কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করা যেত, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক ক্ষমতা কেন্দ্রের টানাপড়েন থেকেও রেহাই মিলত।

সংগত কারণেই নগর সরকারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করে দেখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা