kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দূষণে বিপর্যস্ত ঢাকা

পরিবেশ উন্নয়নে ব্যবস্থা নিন

১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূষণে বিপর্যস্ত ঢাকা

পরিবেশদূষণের কারণে ঢাকা অনেক বছর ধরেই পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, বাড়ি ও কলকারখানার পাশাপাশি অবস্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নাগরিক অসচেতনতা—এসবই পরিবেশদূষণের কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে চলছে মেট্রো রেলের কাজ।  ময়লা-আবর্জনা রাস্তার পাশে পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের পর বায়ুদূষণে ঢাকা আবার শীর্ষে উঠে আসে ৭ জানুয়ারি। একটি নির্দিষ্ট শহরের প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা হয় একিউআই সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স, যা একটি শহরের বাতাস কতটুকু বিশুদ্ধ বা দূষিত সে সম্পর্কে তথ্য দেয় এবং সেই সঙ্গে ওই পরিস্থিতিতে কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা জানিয়ে দেয়। একিউআই সূচকে ৫০-এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া হয়। আর সূচকের স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ঢাকার বাতাসে দূষণের পরিমাণ ছিল ২৪৫ একিউআই, যা বাতাসে দূষণের মাত্রার দিক থেকে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’।

বায়ুদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণের যে খবর গতকালের গণমাধ্যমে এসেছে, তা-ও উদ্বেগজনক। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের জরিপ করা ১২ স্থানের প্রতিটিতেই দিনের বেলায় শতভাগ সময় নীরব এলাকার জন্য প্রযোজ্য মান মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শব্দ হয়েছে। এই ১২টি স্থানের মধ্যে সচিবালয়ের পশ্চিমে মসজিদের পাশের এলাকা বাদে সব জায়গায় ৭০ শতাংশের বেশি সময় ধরে ৭০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের মাত্রা ছিল। সামগ্রিকভাবে ১২টি স্থানে সম্মিলিতভাবে ৯১.৯৯ শতাংশ সময় ৭০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার শব্দ হয়েছে। সর্বোচ্চ সময় ধরে তিনটি স্থানে শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। ক্যাপসের গবেষণাদল ঢাকা শহরের ৭০টি এলাকায় আলাদাভাবে শব্দদূষণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণায় দেখা যায়, নীরব, আবাসিক ও মিশ্র এলাকার ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ১০০ শতাংশ সময় আদর্শ মানের ওপরে ছিল। বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দের মাত্রা আদর্শ মানের চেয়ে ৯৭.৫৮ শতাংশ সময় বেশি মাত্রায় ছিল। শিল্প এলাকায় শব্দের মাত্রা আদর্শ মানের চেয়ে ৭১.৭৫ শতাংশ সময় বেশি মাত্রায় ছিল।

দেশে ব্যাপকভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। উন্নয়নের লক্ষ্য মানুষ। কিন্তু মানুষ বাঁচাতে পরিবেশদূষণ রোধে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা