kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এই দিনে

১০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

আজ ১০ জানুয়ারি। বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভেতর দিয়ে পূর্ণতা পায় আমাদের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও স্বাধীনতার ঘোষক, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রগতিশীল ধারার প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু তখনো কারাবন্দি। স্বাভাবিকভাবেই বাঙালি জাতির বিজয় অর্জনের পরও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল সবার মনে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তাই স্বাধীনতার আনন্দকে পরিপূর্ণ করে তোলে। স্বজন হারানো বাঙালি জাতি ফিরে পায় আত্মবিশ্বাস। তিনি তো ছিলেন বাঙালির আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কাজেই তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন করে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা ফিরে পায়। 

স্বাধীনতার জন্য বাঙালির লড়াই দীর্ঘকালের। সেই অগ্নিযুগ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আগে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে স্বপ্নপূরণে। স্বাধীনতার স্থির লক্ষ্যে দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের মনে বীজমন্ত্র বুনতে হয়েছে। এ কাজটিই করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন সেই মহান পথপ্রদর্শক, যিনি জাতিকে একটি অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বগুণেই জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’, এসব অমোঘ-অবিস্মরণীয় আহ্বান বাঙালিকে নতুন পথের দিশা দেখিয়েছিল। ২৬শে মার্চ তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে জীবিত বঙ্গবন্ধুর দেশে ফেরা নানাভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বের মানুষ এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি ও বাংলাদেশের অবস্থান জেনে। বাংলাদেশকে একাত্তরের কয়েক বছর পরও বিশ্বের মানুষ ‘মুজিব কান্ট্রি’ বা মুজিবের দেশ হিসেবে চিনত। একসময় বঙ্গবন্ধু তাঁর দল, এমনকি নিজ দেশের চেয়েও বিশ্বের মানুষের কাছে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই নেতা, যিনি বাঙালির চোখে স্বাধীনতার স্বপ্ন এঁকে দিতে পেরেছিলেন। স্বপ্নপূরণে জীবন বাজি রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনেরও লক্ষ্য ছিল এই স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির প্রতি অসীম মমতা পোষণ করতেন তিনি। দেশে ফিরে প্রথম জনসভায়ই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলেছিলেন। সেই বিচার এখন চলছে।

বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর নীতি ও আদর্শ আজও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের ভেতর দিয়েই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারি আমরা। আজ থেকে শুরু হচ্ছে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের ক্ষণ গণনা। তাঁর জন্মশতবর্ষে আমাদের অঙ্গীকার হোক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা