kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনভিপ্রেত ঘটনা

আদালতের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখুন

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনভিপ্রেত ঘটনা

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে তুমুল হট্টগোল করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁদের হৈচৈ আর স্লোগানের কারণে বিশৃঙ্খল এজলাসে আর কোনো মামলার শুনানি নিতে পারেননি প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের আচরণকে ফ্যাসিবাদী বলেছেন। অন্যদিকে তাঁকেই দুষছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশ হওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে গত ২৮ নভেম্বর তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ওই মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে আসার কথা ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে শুনানির শুরুতেই বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। সে জন্য সময় প্রয়োজন বলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রধান বিচারপতি এ সময় আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির আইনজীবীরা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে আদালতকক্ষের ভেতরে হৈচৈ শুরু করেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও এ সময় জুনিয়র আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে আদালতকক্ষে আটকা পড়েন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অনেক আইনজীবীও আটকা পড়েন আদালতকক্ষে। একপর্যায়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এজলাস কক্ষ থেকে বের হতে চাইলেও জুনিয়রদের বাধার মুখে আবার আসনে ফিরে যান। বিএনপির আইনজীবীদের হট্টগোলে ওই দিন আর কোনো শুনানি করতে পারেননি আদালত।

আদালত হচ্ছে মানুষের শেষ আশ্রয়। সেখানে আইনজীবীরা তাঁদের মত তুলে ধরবেন। সওয়াল-জবাব করবেন। নিজেদের যুক্তি তুলে ধরবেন। কিন্তু আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের হৈচৈ-হট্টগোল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আইনজীবীদের আছে। আদালত কোনো রাজপথ নয় যে সেখানে হট্টগোল করে কিংবা আদালতের কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় করা যাবে। সেখানে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেই আদালতকে পক্ষে নিতে হবে। অতীতেও একবার এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল। আমরা মনে করি, আদালতের মর্যদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাই সহযোগিতা করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা