kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম

সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম

সম্প্রতি দেশের সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস পরিচালিত এক জরিপের ফল বলছে, চাকরির বাজারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তরুণদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা। কেন পিছিয়ে থাকছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? ওই জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষা কারিকুলাম থাকলেও সেগুলো উপযুক্ত নয় অথবা যোগ্য শিক্ষকের অভাব রয়েছে। আর সে কারণেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তরুণরা চাকরির বাজারে পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু আদতে কেমন চলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, দেশের ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতেই উপাচার্য নেই। এ ছাড়া ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি এবং ৫৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নেই। আর ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার—এই তিন পদের কেউই নেই। মাত্র ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পদই পূর্ণ আছে। ভিসি না থাকলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। তাঁঁরা পড়ালেখা শেষ করে সার্টিফিকেট নিয়ে বেরিয়েও যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের সার্টিফিকেটে সই করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের নিয়োগ দেওয়া ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যরা, যার কোনো বৈধতা নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো সদস্যের লাভজনক পদে থাকার সুযোগ না থাকলেও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিওটি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভিসি, ট্রেজারারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছেন। আর ওই সব পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

ভর্তি মৌসুম সামনে রেখে দেশের ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলেছ, ‘কেউ অনুমোদনহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে অথবা অননুমোদিত কোনো প্রগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।’ গণবিজ্ঞপ্তি জারির কারণ হচ্ছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। সরকার বন্ধ করলেও আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। কেউ কেউ চালাচ্ছে অননুমোদিত প্রগ্রাম। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি। কারো কোর্স অবৈধ। কোনো কোনোটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি মেলেনি।

দেশে প্রতিবছর উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর সবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয় না। আবার অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় পড়ার জন্য বেছে নেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচও অনেক বেশি। আর সে কারণেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধুই সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান না হয়ে সত্যিকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে হবে। দেশের আইন মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা