kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বায়ুদূষণ ও বিষণ্নতা

সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনা জরুরি

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ কতটা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে তার একটি হিসাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়াল। বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। কয়েক ঘণ্টার জন্য মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর ও ভারতের কলকাতা এগিয়ে গেলেও রাত সাড়ে ৮টার পর ঢাকা আবার শীর্ষে পৌঁছে। গবেষকদের ভাষ্য, নভেম্বর মাসে আট দিন ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। এয়ার ভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই মাসের শেষ সপ্তাহ ধরে ঢাকার সাতটি স্থানের মধ্যে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ ছিল কারওয়ান বাজার এলাকায়। এরপর মোহাম্মদপুর ও গুলশান এলাকায়; উত্তরা, মিরপুর ও নর্দা এলাকার বায়ুর মানও বেশ খারাপ। মোট কথা রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার বায়ু অস্বাস্থ্যকর।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীর ১১ শতাংশ লোক বায়ুদূষণজনিত রোগে ভুগছে। তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৮ শতাংশ। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছে ৮ শতাংশ আর ক্যান্সারে আক্রান্ত ১.৩ শতাংশ—বায়ুদূষণ পরোক্ষভাবে এ দুটি রোগে আক্রান্ত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ৭১ শতাংশ লোক বিষণ্নতায় ভুগছে; ৬৮ শতাংশ লোক কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। গত সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষ ২২ মাস আগে মারা যায়।

বায়ুদূষণে ঢাকা শহরে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটছে; পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ নিয়ে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরে; কিন্তু সুরাহার কার্যকর পদক্ষেপ নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, বাতাসে ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা বেড়ে গেলে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও স্নায়ুজনিত (যেমন বিষণ্নতা) সমস্যা বেড়ে যায় এবং চিন্তনপ্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দেশের, বিশেষ করে ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণের উৎসও দিন দিন বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে বায়ুদূষণ কমানোর ব্যবস্থা দ্রুত নিতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে; উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কিন্তু উন্নয়নের মাত্রা শুধু সাংখ্যিক বিষয় নয়। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্য কমানো, পরিবেশ বিমল রাখা এবং সাংস্কৃতিক-মানসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। অথচ দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও বাড়ছে। বৈষম্য ও দূষণ জনগোষ্ঠীকে মানসিক বৈকল্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ সমস্যার নিদান জরুরি। সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হোক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা