kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সংকট মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিক বিশ্ব

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংকট মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিক বিশ্ব

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৫। এতে ২০০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল : ভালনারেবল নেশনস কপ-২৫ লিডার্স সামিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এখন থেকেই কাজ শুরু করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্যর্থ হলে নতুন প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব যেসব দেশের ওপর পড়েছে বা পড়ছে, বাংলাদেশ রয়েছে তার শীর্ষে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবহাওয়ার মৌসুমি ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ সব সময়ই বিপদাপন্ন। ইউএনডিপি বাংলাদেশকে বিশ্বের এক নম্বর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাইক্লোনপ্রবণ এবং ষষ্ঠতম বন্যাপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সব খাত, বিশেষ করে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কৃষি উৎপাদন, প্রাকৃতিক পরিবেশসহ জনকল্যাণমূলক সব সেবা খাত এবং খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মাত্রাও কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের আরো অনেক হুমকির কারণে লাখ লাখ মানুষ পৈতৃক ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, নদীভাঙন, লবণাক্ত পানি এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মিশ্রণের কারণে এসব ঘটছে। অর্থাৎ বাড়ছে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা।

বাংলাদেশ যখন জলবায়ু উদ্বাস্তু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তখনই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা এ দেশের পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নানাভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, এর প্রভাব এবং মোকাবেলার সক্ষমতার অভাবের ওপর ভিত্তি করে দুর্বল দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিয়মিত সমর্থন এবং আলাদাভাবে উন্নয়ন তহবিল রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুরুত্বারোপ করেছেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের প্রতি। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থান হারানো মানুষের পুনর্বাসন এবং সুরক্ষার প্রতিও বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল তৈরির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী দেশগুলোর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। কাজেই এ বিষয়ে একটি শক্ত অবস্থান নিতে হবে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষার জন্য কার্যকর কর্মকৌশল অবশ্যই তৈরি করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা