kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে

দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করুন

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেনে ভ্রমণকে সারা দুনিয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণ মনে করা হয়। পরিবেশদূষণও কম হওয়ায় দুনিয়াব্যাপী ট্রেন এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন। বাংলাদেশে নিকট-অতীতে ট্রেন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। অনেক রেলপথ বন্ধ কিংবা তুলে ফেলা হয়েছে। স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোকবল কমিয়ে ফেলা হয়েছে। রেলপথের সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণেও হয়েছে চরম অবহেলা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার গত এক দশকে রেলওয়ের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে। রেলপথ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইঞ্জিন ও বগি আমদানি করে ট্রেনকে আবার এক নম্বর গণপরিবহনে উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নকাজে সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত আগের ১০ বছরে দেশে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ৪৮৬টি। চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। গত এক সপ্তাহে বড় দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি ট্রেন অন্য একটি ট্রেনের ওপর আছড়ে পড়ে। সিরাজগঞ্জে একটি ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত হলে পাঁচটি বগি পুড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রে চালকের দক্ষতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এর ওপর ছিল অতিরিক্ত কাজের চাপ। জানা যায়, গত ১০ বছরে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও চালকের সংখ্যা সেই হারে বাড়েনি। কয়েক দশক আগের জনবল কাঠামো অনুযায়ী পাঁচ ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৭৪২ জন চালকের পদ থাকলেও পদ খালি আছে ৬০৮টি, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ পদই খালি। নিয়মানুযায়ী আট ঘণ্টা ট্রেন চালানোর পর একজন চালক কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা বিশ্রাম নেবেন। কিন্তু বাস্তবে চালকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত একনাগাড়ে ট্রেন চালাতে হয়। আবার ওভারটাইমের আশায় অনেক চালক তার চেয়ে বেশি সময়ও ডিউটি করতে চান। ফলে চালকদের ক্লান্তিজনিত কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। রেলপথের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও অনেক ঘাটতি রয়েছে। রেললাইনের পাথর সরে গিয়ে অনেক স্থানেই রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রেলপাতের নাটবল্টু পর্যন্ত চুরি হয়ে যায়, সেগুলো যথাসময়ে আবার স্থাপন করা হয় না। অনেক রেল সেতুই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রেললাইনের দুর্বলতার কারণেও দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রেলপথের উন্নয়নকাজের ধীরগতিও সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রেলওয়ের উন্নয়নে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। তা করতে হবে সমন্বিতভাবে। দক্ষ লোকবল নিয়োগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রেলপথের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে আরো মনোযোগী হতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা