kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা

নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা দরকার

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি ট্রেনের চালক সিগন্যাল উপেক্ষা করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলক্রসিংয়ে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণসংহারী ঘটনাটি ঘটে। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ছয়জন মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আট ঘণ্টা রুট দুটি বন্ধ ছিল। বিধ্বস্ত বগি সরিয়ে মূল রেললাইন মেরামত করার পর গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি যাচ্ছিল চট্টগ্রামে। আর তূর্ণা নিশীথা নামের আন্ত নগর ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাচ্ছিল ঢাকায়। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিং হওয়ার কথা। সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মূল লাইন থেকে লুপ লাইনে ঢুকছিল। ৯টি বগি লুপ লাইনে চলেও গিয়েছিল। ওই সময় এর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। রাত পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালনা) বলেছেন, তূর্ণার লোকোমাস্টার (চালক) সিগন্যাল অমান্য করেছিলেন বলে তাঁরা জেনেছেন। খবর পেয়ে রেলমন্ত্রী কসবায় গিয়েছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, একজন চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে—এটা প্রাথমিক ধারণা। ঘটনার সবিস্তার তদন্তের জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে একটি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে তিনটি ও জেলা প্রশাসন থেকে একটি—মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কালের কণ্ঠসহ গণমাধ্যমগুলোর বিবরণ থেকে জানা যায়, সংঘর্ষের পর তূর্ণার একাধিক বগি উদয়নের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। দুটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরই রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এবং পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। তাঁরা ১০টি লাশ উদ্ধার করেন। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুজন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালে একজন মারা যান। স্টেশন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ট্রেন দুর্ঘটনায় এত মানুষ হতাহতের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। দুর্ঘটনা রেলপথ বা অন্য যেকোনো পথেই হোক, দুর্ঘটনা অনেক মানুষের জীবননাশ বা শারীরিক-মানসিক ক্ষতির কারণ। অনেকের পক্ষে সারা জীবনেও এ ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয় না। কেন ঘটনাটি ঘটল, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে এর প্রতিকার এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি এবং আহতদের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা। যেকোনো যাত্রাপথ নিরাপদ থাকুক—এটাই আমাদের কামনা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা