kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা

জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিন

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা

বায়ুদূষণের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বর। আর রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা ছিল দুই নম্বরে। এয়ার ভিজুয়াল নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, গত মঙ্গল ও বুধবার ঢাকার দূষণ দিল্লিকে ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকা উঠে এসেছে শীর্ষে। পরিবেশদূষণের কারণে নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী এই মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশ, আর বাংলাদেশে ২৮ শতাংশ।  কিন্তু সেসব আমাদের নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছে কি না তা বোধগম্য নয়। তার কারণ ক্রমেই পরিবেশদূষণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, অথচ তা প্রতিকারে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপই নেই।

দু-এক বেলা না খেয়ে থাকা যায়, নিঃশ্বাস না নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। কিন্তু নিঃশ্বাস নিলেই যদি অসুস্থ হতে হয়, তাহলে মানুষ কী করবে? পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ভারতের রাজধানী ছেড়ে বহু মানুষ অন্য স্থানে সরে যাচ্ছে। তাদের তেমন সুযোগ আছে। কিন্তু ঢাকার মানুষ কী করবে? পরিবেশদূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুদের। গত চার বছরের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দূষণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি হলে প্রধানত তা আমাদের ফুসফুসকে অকেজো করে দেয়। কয়েক বছর আগে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ঢাকার ১১টি এলাকায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালিয়ে ফুসফুসের অসুস্থতা ব্যাপক হওয়ার প্রমাণও পেয়েছে। ফুসফুসের সক্রিয়তা বা পিএফটি (পালমোনারি ফাংশন টেস্ট) পরীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ২৩.৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এত দিনে এ হার নিশ্চয়ই আরো বেড়েছে। এখানে বাসিন্দাদের কী করার আছে? জীবনযুদ্ধের প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বেরোতেই হবে। আর নিঃশ্বাসে দূষিত বাতাস টেনে অসুস্থ হতে হবে। শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, অতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, লিভার-কিডনির রোগ, এমনকি ক্যান্সারের পরিমাণও বাড়ছে।

ঢাকার বায়ুদূষণের একটি প্রধান কারণ আশপাশে থাকা অজস্র ইটভাটা। এগুলোর ধোঁয়ার সঙ্গে কয়লার গুঁড়া ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। ঢাকায় এখন স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু প্রবেশ করছে ঢাকায়। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে বালু পরিবহন করার আইন থাকলেও কেউ তা মানছে না। পুরনো যানবাহন বা অতিরিক্ত বোঝাই করা যানবাহনের কারণে বাতাসে হাইড্রোকার্বন বা রাসায়নিক দূষণ বাড়ছে। ঢাকায় থাকা কলকারখানার দূষণও কম নয়। এগুলো কমানোর পদক্ষেপ তো নাই-ই, কোনো পরিকল্পনা আছে বলেও মনে হয় না। উল্টো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ যে রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, তার পরিণাম কী হবে তা নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। পরিবেশের সুস্থতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা