kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন

দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন

সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে নজরদারিতে আছেন। অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে কিংবা ব্যাংকগুলোর কাছে তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। পত্রপত্রিকায় তাঁদের অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের বিবরণ আসছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কিভাবে একেকজন শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন, তা জেনে অবাক হতে হচ্ছে। গতকালের কালের কণ্ঠেও কয়েকজনের সম্পদের হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। ভোলা-৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ২০০৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁর বার্ষিক আয় ১০ লাখ ২৩ হাজার ৭৬০ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আয়কর হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ টাকা ৬৭ পয়সা। এমপি হওয়ার পর তিনি কী এমন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেলেন যে তাঁর বার্ষিক আয় শতগুণ বেড়ে গেল? শনিবার রাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে আটক করেছে র‌্যাব। জানা যায়, মাত্র ছয় বছর আগে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির একটি বাসায় গ্যারেজের পাশে একটি রুমে ছয় হাজার টাকায় সস্ত্রীক ভাড়া থাকতেন রাজীব। এখন সেখানে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকেন তিনি। সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম প্রধানের ৫০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। ইসমাইল হোসেন সম্রাট, জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়া, পাগলা মিজান—প্রত্যেকেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এগুলো কিভাবে সম্ভব হলো?

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এ দেশে অনেক আগেই শুরু হয়েছে। সেই দুর্বৃত্তায়ন ডালপালা ছড়াতে ছড়াতে এখন মহীরুহে রূপ নিয়েছে। অঙ্কুরে এসব নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিলে আজ অবস্থা এতটা খারাপ হতো না। মন্দের ভালো যে এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। নিজের দল থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই দুর্নীতির অবসান করা যাবে কি? জানা যায়, কেউ কেউ ঢাকায়ই ২৫টির বেশি ফ্ল্যাট কিনেছেন। সেগুলো কিভাবে কিনেছেন তা দেখার জন্য কারো নজরদারি আছে কি? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি রোধ করার জন্য দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করছে। কিন্তু দেশে দুর্নীতির যে প্রবল প্রতাপ তা রোধ করার পক্ষে দুদকের সক্ষমতা কতটুকু? দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করার মতো সুযোগ-সুবিধা কতটুকু আছে? জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগসহ আরো কিছু সংস্থা নামেমাত্র তাদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অনেকেই মনে করেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের ব্যবহার এবং বিদেশে অর্থপাচার রোধ করা গেলে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবেই অনেক কমে যাবে।

মন্তব্য