kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

দুরবস্থায় ডাক বিভাগ

সেবার মান বাড়াতে ব্যবস্থা নিন

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একসময় চিঠি বা পত্র ছিল জরুরি যোগাযোগের মাধ্যম—রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত। শুরুতে চিঠি ছিল রাষ্ট্রীয় বার্তা সঞ্চালনের মাধ্যম, ডাকব্যবস্থা প্রচলনের উদ্দেশ্য তা-ই ছিল। পরে তা পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠে। প্রণয়ের সম্পর্ক বিস্তারেও এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ডাক বিভাগের মাধ্যমে এখনো চিঠিপত্র চালাচালি হয় সরকারি বা বেসরকারি দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে।  তবে অন্যান্য উপযোগিতার অবসান ঘটেছে বলা চলে। ফলে সরকারি ডাক বিভাগের কাজও সীমিত হয়ে পড়েছে। ডাক বিভাগের অনেক কাজ বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের হাতে চলে গেছে। উল্লেখযোগ্য কাজ না থাকায় বেশির ভাগ পোস্ট অফিসে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

ডাক বিভাগ এখন মূলত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস আদেশ, ব্যাংক ও বীমা কম্পানির দাপ্তরিক চিঠি লেনদেন করে। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে উপযোগের পরিবর্তনের ফলে নেতিয়ে পড়ছে একসময়ের ব্যস্ততম পোস্ট অফিসগুলো। অফিসে বসে অলস সময় কাটান পোস্টালকর্মীরা। উপযোগিতা কমে যাওয়ায় আয় কমেছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে। গত পাঁচ বছরে সরকারকে এক হাজার ৭২৬ কোটিরও বেশি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে ডাক বিভাগের মোট আয় ছিল ২১৯ কোটি টাকা। ওই বছর ব্যয় হয়েছে ৪৪৮ কোটি টাকা। পরের তিন বছর সরকারের লোকসান হয়েছে যথাক্রমে ২৩৪ কোটি, ৩৬৪ কোটি ও ৪৫২ কোটি টাকা। দেশে মোট পোস্ট অফিসের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৬টি। মোট ৩৯ হাজার ৮৮৮ জন কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় বেশির ভাগ ডাকঘরের অবস্থা খুবই করুণ। ২০০৪ সালেও ডাক বিভাগের মাধ্যমে ২৩ কোটি চিঠি লেনদেন হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে লেনদেন হয়েছে মাত্র চার কোটি ১৭ লাখ চিঠি।

শুধু প্রযুক্তির বিকাশ বা বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস নয়, আশানুরূপ সেবা দিতে না পারা, বিকল্প উপযোগ সৃষ্টি করতে না পারা এ দুরবস্থার কারণ। ডাক বিভাগের উপযোগিতা যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নয়। কিন্তু সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে মানুষ ডাক বিভাগের দ্বারস্থ হবে কেন? সময়ের সঙ্গে সংগতি রেখে এ বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়নি। এর উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হয়নি। আধুনিকায়নের কাজ ঢিমেতালে হয়েছে। সব ডাকঘরকে ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্কের আওতায় নেওয়ার একটি প্রকল্প শেষ হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ প্রকল্পও শেষ হয়েছে। এগুলো আরো দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত ছিল। মানবসম্পদের পরিবর্তনও জরুরি।

জনস্বার্থের চিন্তা নিয়ে ডাক বিভাগকে কাজ করতে হবে। কম সময়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে স্থবির দশার অবসান হবে নিশ্চয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা