• ই-পেপার

নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী

  • বাংলাদেশ হোক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

কৃষিজমির অম্লতা বৃদ্ধি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

শস্যশ্যামল বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হলো এর উর্বর মাটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজমিতে বাড়ছে এসিডিটি বা অম্লতা। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা যেমন কমছে, আবার কৃষকের খরচও বেড়েই চলেছে। বলা যায়, দেশের কৃষিতে নীরব বিপর্যয় দানা বাঁধছে। জমির এই গুণগত মানের অবক্ষয় শুধু আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং আমাদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথেও বড় অন্তরায়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) গবেষণার বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৩৯ লাখ হেক্টর বা আমাদের আবাদি জমির প্রায় অর্ধেক বর্তমানে অম্লতা থেকে অতি অম্লতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব জমির পিএইচ মান ৪.৫ থেকে ৫.৫, যেখানে আদর্শ মান হলো ৬.৫ থেকে ৭.৫। এ ধরনের মাটি থেকে ফসল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে না। এতে ফলন কমে যায়।

গবেষকরা বলছেন, একদিকে ফসলের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ক্ষারধর্মী উপাদান ক্রমাগত অপসারিত হচ্ছে; অন্যদিকে ইউরিয়া ও সালফারজাত রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মাটিকে অতিরিক্ত অম্ল করে তুলছে। জৈবসারের ব্যবহার কমে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়া মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এ ছাড়া মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু একের পর এক ফসল উৎপাদনের কারণেও মাটির গুণগত মান কমছে। এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের কৃষকদের। কঠোর পরিশ্রম করেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না, যা তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে ধারাবাহিক লোকসানের দিকে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মাটি শুধু ফসল উৎপাদন মাধ্যম নয়, এটি জীবন্ত ইকোসিস্টেম। একে বাঁচিয়ে না রাখলে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট প্রকট হবে। চলমান বিপর্যয় রোধে গবেষকরা বলছেন, সঠিক মাত্রায় চুন প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির মান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সার খরচ কম লাগায় উৎপাদন খরচও অনেকটা বেঁচে যায়। খবরে বলা হয়েছে, এ নিয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আলু চাষিদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণাও হয়েছে। এতে বেশ চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জৈবসারও মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।

আমরা মনে করি, অম্লতার অভিশাপ থেকে মাটিকে মুক্ত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রতিটি এলাকার মাটি পরীক্ষা করে সে বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের অবগত করতে হবে। পাশাপাশি অম্লতা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

শিল্প সুরক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ

সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠন

শিল্প সুরক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানামুখী সংকটে আছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতির প্রাণ বেসরকারি শিল্প খাত ধুঁকছে। বহু শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় থাকা শিল্প খাতকে টেনে তোলার জন্য বিএনপি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশের রুগ্ণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রুগ্ণ শিল্প-কারখানাকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগিয়ে এসেছে ব্যাংকিং খাতও। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গভীর আর্থিক সংকটে থাকা দেশের বৃহৎ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপকে বাঁচাতে এর বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে দেশের ৩৬টি ব্যাংক।

ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ময়দা, সিমেন্ট, স্টিল, কাগজসহ বিভিন্ন খাতে সিটি গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গ্রুপটিতে সরাসরি প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কর্মরত। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট দীর্ঘ মেয়াদে গভীর হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতগুলোতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

জানা যায়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি মূলধনের ঘাটতি, ব্যাংক সহায়তা কমে যাওয়া এবং নতুন প্রকল্পে গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় শিল্প গ্রুপটির আর্থিক সংকট ক্রমেই প্রকট হয়েছে। গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে সিটি গ্রুপের ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ৫০০ কোটির টাকার বেশি। পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা। সিটি গ্রুপের দাবি, অতীতে যেসব ব্যাংক বড় অঙ্কের চলতি মূলধন সহায়তা দিত, তাদের অনেকেই এখন আগের মতো সহায়তা দিতে পারছে না। কম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ছয়টি প্রকল্প উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস না পাওয়ায় সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, বেতন এবং অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মতে, সিটি গ্রুপের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সচল রাখা শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাত, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ঋণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে একটি সমন্বিত পুনর্গঠন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা মনে করছেন, কোনো একটি ব্যাংক এককভাবে পদক্ষেপ নিলে ঝুঁকি ও ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। কিন্তু সব ব্যাংক সমন্বিতভাবে এগোলে ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় করপোরেট ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

দেশে বিনিয়োগ বা শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগের পরিবেশ এবং স্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশি-বিদেশি সব উদ্যোক্তার কাছেই নেতিবাচক বার্তা যাবে। তাই ঋণ পুনর্গঠন, পর্যাপ্ত চলতি মূলধন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমরা মনে করি, শিল্প সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অবশ্যই সফল হবে।

এখনই নীতিমালা জরুরি

শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি

এখনই নীতিমালা জরুরি

প্রযুক্তির দাপটে আমাদের শিশুদের চিরচেনা শৈশবের রূপটাই আমূল বদলে যাচ্ছে। একসময় শিশুরা বিকেলে খেলার মাঠে ছুটে গেলেও এখন তাদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। গবেষণা বলছে, এতে শিশুরা চোখের সমস্যা, স্থূলতা, মানসিক বিকাশে বাধাসহ বিবিধ সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি এতটাই বেড়েছে যে গোটা বিশ্বই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ডিজিটাল আসক্তি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় দেশে দেশে আইন হচ্ছে। হতাশার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য নেই।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় অংশের রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ঘরে ঘরে একই চিত্র। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো নেশার মতো ইন্টারনেট আসক্তিও মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানুষের মনোযোগ ও স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। ডিজিটাল আসক্তির কারণে কিশোররা নানা অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। গতকালই আরেক খবরে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্র মেহেদী হাসানকে (১৫) পিটিয়ে ও শ্বাস রোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) জানিয়েছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে এবং গেমিং ডিভাইসে সময় কাটাচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সময় হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। এতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে। এসব কারণে অনেক দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিয়েছেন, বাংলাদেশকেও একই পথে হাঁটতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, শুধু শিশুরা নয়, মধ্যবয়স্করাও সামাজিক মাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করছেন, যা ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। এসব রোধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। রাষ্ট্রকেও এখন ভাবতে হবে আমরা কোন ধরনের সমাজ চাচ্ছি।

আমরা মনে করি, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই একে বর্জন করা সম্ভব নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়। আগামীর প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে হলে এখনই শিশুদের জন্য ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন এ বিষয়ে সচেতনতাও।

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকাররা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ঘটনার ১০ বছর পর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খসড়া অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খসড়া অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দেশের ইতিহাসে বৃহৎ এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করে আসছে সিআইডি। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত চূড়ান্ত করা হয় এবং ১ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতামত চাওয়া হয়। জানা যায়, বাংলাদেশসহ সাত দেশের মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১০ জন, ফিলিপিন্সের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার দুই, চীনের তিন, শ্রীলঙ্কার আট, জাপানের এক এবং ভারতের চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্রে ফরেনসিক এই মামলার প্রমাণ হিসেবে রয়েছে বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বিবরণ। তথ্য-প্রমাণ হিসেবে রয়েছে ১০ হাজার পৃষ্ঠার কাগজপত্র। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা গেলে তা দেশের আর্থিক খাতে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সিআইডির একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভিযুক্তদের মধ্যে ড. আতিউর রহমান ছাড়াও রয়েছেন আনিস এ খান, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভংকর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এ এফ এম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ। রিজার্ভ চুরির মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি নির্ভুল খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছি। তবে আমাদের এখনো অ্যানালিসিস চলছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে। জানা যায়, মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহায়তায় নর্থ কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ও তাঁর নেতৃত্বাধীন লাজারাস গ্রুপকে মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সময় ফিলিপিন্সের আরসিবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের গতিপথও শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করা গেলেও বড় অংশই উদ্ধার করা যায়নি।

আমরা আশা করি, দ্রুত অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে আদালতে পেশ করা হবে। আমরা চাই, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতকে নিরাপদ করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী | কালের কণ্ঠ