kalerkantho

নানা চক্র সক্রিয়

নিরাপদ হোক কোরবানি ও ঈদ

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে তিন দিনের ঈদের ছুটি। পাঁচ দিনের লম্বা ছুটিতে সব ভোগান্তি উপেক্ষা করে শুরু হয়েছে ঈদ যাত্রা। মানুষ যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে ঈদ উৎসবে যোগ দিতে, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে। আসন্ন ঈদুল আজহা ও জাতীয় শোক দিবস ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা ও নজরদারি অনেক বাড়িয়েছে পুলিশ। সতর্ক অবস্থানে আছে বিশেষ ইউনিট ও গোয়েন্দারা। বিগত বছরগুলোতে আগস্ট মাসে জঙ্গি হামলা ও হামলার পরিকল্পনা, সম্প্রতি পুলিশকে টার্গেট করে বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা ফেলে রাখার চার ঘটনা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এবার শঙ্কা বিরাজ করছে। আবার ঈদের ছুটির পরই জাতীয় শোক দিবস হওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি রেঞ্জ, মহানগর ও জেলায় দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হচ্ছে ছুটি।

ওদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই বসেছে কোরবানির পশুর হাট। ছুটি শুরু হওয়ায় হাটে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ করা যাচ্ছে। বিক্রেতারাও তাঁদের গরু নিয়ে আসছেন হাটে। নানা জাতের, নানা দামের গরু এবার শুরু থেকেই হাটে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রেতারা খুঁজছেন নিরাপদ কোরবানির পশু। কয়েক মাস আগে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে গরুর দুধই নয়, গরুর খাবারেও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বেশ কিছু রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই গবেষণায় গরুর খাবারের ৩০টি নমুনার মধ্যে ৬৯ থেকে ১০০ শতাংশে কোনো না কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে। কোনো কোনোটিতে একই সঙ্গে কয়েক ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যায়। কোরবানির সময় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা করার বিষয়টি সামনে আসে। এবার এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গরুর খাবারে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি। স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কোরবানির মাংস নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কোরবানির নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করার চিন্তা সবারই। অন্যদিকে কোরবানির ঈদের আগে অপরাধীচক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজধানীতে ১৫ দিনে শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সব সংশয় সরিয়ে ঈদ যাত্রা থেকে শুরু করে কোরবানি ও উৎসব উদ্যাপন নিরাপদ হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য