kalerkantho

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন

দ্রুততম সময়ে সমঝোতায় আসা প্রয়োজন

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র গঙ্গা ছাড়া আর কোনো নদীর পানিবণ্টন নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই দেশ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একমত হওয়া গেলেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে চুক্তি সম্পাদন করা যায়নি। অথচ দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেআরসির সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। বৈঠকে অভিন্ন সাতটি নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে মোটামুটি সমঝোতায় আসা গেছে বলে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নদীগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে চুক্তি সম্পাদনের পথে এগোবে দুই দেশ। বৈঠকের পর ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাকি নদীগুলোর পানিবণ্টন প্রশ্নেও দ্রুত সমঝোতার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে ভারত অভিন্ন নদীতে সংযোগ প্রকল্প বা প্রবাহ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো উদ্যোগ নেবে না। প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও তাই।

জেআরসির বৈঠকে যে নদীগুলোর পানিবণ্টন বিষয়ে মোটামুটি একমত হওয়া গেছে সেগুলো হলো : ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, খোয়াই, গোমতী ও মুহুরি। বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও নৌ চলাচলে প্রতিটি নদীই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে নদীগুলোর যৌক্তিক পানিবণ্টন নিশ্চিত করা হোক। বাকি ৪৬টি নদীর ব্যাপারেও জেআরসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী। গঙ্গার ভাটিতে থাকা পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়েও জেআরসির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে ভারতের কোনো আপত্তি নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও কথা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে চুক্তি সম্পাদনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। যে রকম অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, তাতে কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বর্ষায় বন্যা এবং শীতকালে নদীগুলোতে পানি না থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণপ্রক্রিয়াও ক্রমেই বাড়ছে। তাই অস্তিত্বের প্রয়োজনেই বাংলাদেশকে দ্রুত অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শুধু পানিবণ্টনই নয়, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ নদীগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে এবং তা এমনভাবে করতে হবে, যাতে দুই দেশই লাভবান হয়। আমরা আশা করি, আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এ ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পাব।

 

মন্তব্য