kalerkantho

দুর্ঘটনা থেমে নেই

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ব্যবস্থা নিন

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন আর চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব দূর করা যায়নি। কোনোভাবেই সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হচ্ছে না। গত শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে তিন নারী, চালকসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২৪ জন। একটি জরিপের ফল থেকে জানা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়ে থাকে। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে চুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট বা এআরআই বলছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতির কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। আর পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ১০ শতাংশ। পথচারীদের অসচেতনতা ও সড়কের ত্রুটির কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তির বেশির ভাগই শিশু, তরুণ ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে করণীয় সরকারের জানা। সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির স্বার্থের কারণে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে চালকের লাইসেন্স আছে ১৮ লাখ। অর্থাৎ বাকি ১৫ লাখ যানবাহন চলছে লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে। এ ছাড়া পেশাদার চালকদের মধ্যে অন্তত দুই লাখ চালক লাইসেন্স পেয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের চাহিদা মেনে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই। ফলে যা ঘটছে, তা দেখাই যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারকে এখনই জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে চালকদের ‘ডোপ টেস্ট’ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য