kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

আবার জঙ্গি হানার আশঙ্কা!

কঠোর অভিযানের বিকল্প নেই

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকে আটকও হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনেক সদস্য নিহত হলেও জঙ্গিদের গোপন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে তাদের তৎপরতা একেবারে থেমে নেই। আপাতত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা আছে তাদের। দেশের অভ্যন্তরে গাঢাকা দিয়ে থাকা জঙ্গিরা যেমন গোপনে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তেমনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েও অনেক জঙ্গি সদস্য সক্রিয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে। ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে—এমন সন্দেহে চারজনকে কয়েক মাস আগে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও রয়েছে। সম্প্রতি জঙ্গি সন্দেহে আরো চারজনকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। এদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা। আর সেই রোহিঙ্গা যুবক আবদুল খালেক কিছু দিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিল। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত এক খবরে বলা হচ্ছে, র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের প্রেমের ফাঁদে পড়ে সারা দেশে আরো অনেক তরুণী এরই মধ্যে ঘর ছেড়েছে। তাদের বেশির ভাগ বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসব সদস্যকে কৌশলে দলে ভিড়িয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি ইউনিট গঠন করার চেষ্টা করছে এবিটি। প্রয়োজনে তাদের বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে। এবিটির এই ভয়ংকর ফাঁদে পড়া শিক্ষার্থীরা না জেনে মৃত্যুফাঁদে পা বাড়াচ্ছে। সংগঠনে একবার তাদের ভেড়াতে পারলেই পরবর্তী সময়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরপর তাদের নিয়ে আত্মঘাতী ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। তারপর সময় ও সুযোগমতো তাদের ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক শিক্ষার্থীকে বরিশাল থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এবিটির বর্তমান উদ্দেশ্য সম্পর্কে র‌্যাব জানতে পেরেছে, তারা এখন অনেক ধীরে ধীরে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াচ্ছে। তাদের দীর্ঘ পরিকল্পনা রয়েছে। ধর্মভীরু নারী-পুরুষ তাদের টার্গেট। বিশেষ করে যেসব নারী ধর্মের কথা বললেই দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদের বেছে বেছে দলে ভেড়ায় তারা। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অভাবী পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই ফাঁদে পড়ছে বেশি।

প্রকাশিত খবর এ তথ্যই দিচ্ছে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জঙ্গিদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের সূত্র ধরে নতুন করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। নানা প্রলোভনে, বিশেষ করে ধর্মের ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে আত্মঘাতী ইউনিট। কোনো আঘাত হানার আগেই তাদের নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

 

 

মন্তব্য