kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কলসিন্দুর স্কুলে আগুন

দ্রুত কারণ উদ্‌ঘাটনে পদক্ষেপ নিন

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী শিক্ষার্থীদের কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এ পরিচয়। আর এ পরিচয় অর্জিত হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে নারী ফুটবলারদের কারণে। কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিনবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ ফুটবলে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শাখায় ভর্তি হয় তারা। তাদের অনেকে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলে থাকে। বিদ্যালয়ের কমপক্ষে ১০ জন মেয়ে নিয়মিত সেসব দলে খেলে।

সেই প্রতিষ্ঠান আবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে গত মঙ্গলবার ভোরে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সেই আগুনে মেয়েদের খেলার সনদপত্র, মেডেল, রেজল্যুশন বই ও শিক্ষকদের সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একটি পেনড্রাইভও দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের সন্দেহ, প্রক্রিয়াটি কেউ হয়তো থামিয়ে দিতে চায়।

জানা যায়, রমজান উপলক্ষে বিদ্যালয় এখন বন্ধ। তবে কয়েকটি বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল শাখায় সকালে বিশেষ ক্লাস নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার ভোরে একজন শিক্ষক বিশেষ ক্লাস নেওয়ার জন্য যান। কিছুক্ষণ পর একটি ছেলে বিদ্যালয় ভবনের দোতলায় ওঠে। সে চিৎকার করে বলতে থাকে, আগুন! দ্রুত তিনি বিদ্যুৎ-সংযোগের মেইন সুইচ বন্ধ করেন এবং ওপরে গিয়ে দেখেন, অফিস কক্ষে আগুন জ্বলছে। তিনি কক্ষের জানালা খুলে দেন। দেখেন, বিভিন্ন আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে কাগজপত্র একটি বড় টেবিলে রেখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হলে অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত হন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে কাগজপত্র বের করে আগুন দিয়েছে। কিন্তু কেন আগুন দিয়েছে, তা তিনি বা অন্য শিক্ষকরা বুঝতে পারছেন না।

জানা যায়, অফিস কক্ষে আগুন দিলেও ওই সময় বিদ্যালয়ের ফটকে তালা ছিল। সম্ভবত দেয়াল টপকে অফিসে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। কাজের ধরনে আন্দাজ করা যেতে পারে, প্রামাণ্য নথিপত্র ধ্বংস করতে তারা অফিসে ঢুকেছিল। বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যকে একেবারে নাকচ করে দেওয়া যায় না। এ দেশে নৈতিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার লোকের অভাব নেই। বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ এর সঙ্গে মেয়ে ফুটবলারদের বিশেষ কৃতিত্বের এবং বিদ্যালয়ের জাতীয় পরিচিতির বিষয় জড়িয়ে আছে। আমরা আশা করি, দ্রুত আগুন লাগানোর কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা