kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা

রাজাকারদের তালিকাও তৈরি করা হোক

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গতকাল ২৬শে মার্চ জাতি উদ্যাপন করেছে স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকী। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টে ঝুলছে ৮০০ মামলা। বাদ পড়া ৩৫ হাজার আপিল রয়েছে জামুকার কাছে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনেক অমুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকারের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে সঠিক ও নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য নেওয়া সর্বশেষ উদ্যোগও ভেস্তে যেতে বসেছে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে নতুন করে ২৭ হাজার জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে অন্তর্ভুক্তির জন্য।

মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। মাসিক সম্মানী ভাতা, চাকরির কোটা নির্ধারণ, চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাও নানা প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখিয়েছেন, এমন অভিযোগও আছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৪৫ হাজার জনকে গেজেটভুক্ত করে সনদ দেওয়া হয়। এই তালিকাভুক্তদের বেশির ভাগই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। আরো গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, এই তালিকাভুক্তদের একটি বড় অংশ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ, অর্থাৎ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর ছিলেন। আবার গেজেটভুক্ত হতে পারেননি বা সনদ সংগ্রহ করেননি—এমন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। দেশের স্বার্থেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতীয় বীরদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া জাতির দায়িত্ব। আর সে কারণেই সব জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়, একই সঙ্গে রাজাকারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাও তৈরি করা প্রয়োজন। কারা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন সেটা জানা যেমন জরুরি, তেমনি কারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, সেটা জানাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কম জরুরি নয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা