kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

রাঙামাটি আবার অশান্ত

জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙামাটি আবার অশান্ত

চলমান উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে। সোমবার ভোটগ্রহণ শেষে সরঞ্জামাদি নিয়ে জেলা সদরে ফেরার সময় দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকায় নির্বাচনকর্মীদের গাড়িতে হামলা হয়। অটোমেটিক রাইফেলের ব্রাশফায়ারে নিহত হন ছয় নির্বাচনকর্মীসহ সাতজন। পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) প্রার্থী সুদর্শন চাকমা হামলার ব্যাপারে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় পার্শ্ববর্তী বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্যও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হয়েছে। এখানেও জনসংহতি সমিতি হামলার দায় অস্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তিন পার্বত্য জেলায় হানাহানির ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। গত বছর নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান তপনজ্যোতি চাকমাসহ নিহত হন প্রায় ৩০ জন। এ বছর এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং প্রাণ গেছে বেশ কয়েকজনের। এসব হামলায় বরাবরই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অথচ এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। পাশাপাশি তারা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তা বোঝা যায় সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বর্ণনা থেকে। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনকর্মীরা তিনটি চাঁদের গাড়িতে করে ফিরছিলেন। তাঁদের পাহারায় ছিল পুলিশ ও বিজিবি। তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের এমন হামলা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ভাবিত করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের নামে যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের মুখের কথায় এবং কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের অমিল অনেক আগে থেকেই রয়েছে। তাঁরা মুখে গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি জনপদকে রীতিমতো মৃত্যুপুরীর দিকে নিয়ে চলেছেন। সোমবারের হামলায় যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের একজন শিক্ষক, চারজন ভিডিপির সদস্য এবং একজন পথচারী। পাহাড়ের রাজনীতির সঙ্গে এঁদের কোনো সংস্রব নেই। তা সত্ত্বেও একের পর এক হামলায় এমন নিরীহ লোকজনকেই প্রাণ দিতে হচ্ছে। নির্বাচনসংক্রান্ত সরকারি দায়িত্ব পালন করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কেন তাঁদের এমন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ দিতে হলো?

পাহাড়ের পরিস্থিতি আরো অশান্ত হয়ে ওঠার এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ব্যাপকভিত্তিক যৌথ অভিযানে নামতে হবে। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। অভিযোগ আছে, এসব অস্ত্র অর্থের বিনিময়ে দেশের অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো সংগঠনের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক পাওয়া গেলে সেগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে। গত দুদিনের হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা