kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বুড়িগঙ্গায় উচ্ছেদ অভিযান

পুনরায় দখলদারি ঠেকান

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুড়িগঙ্গাকে বলা হয় ঢাকার প্রাণ। সেই বুড়িগঙ্গার শোচনীয় অবস্থা অনেক দিন ধরেই চলছে। দখল, ভরাট ও দূষণে নদী ক্রমেই শীর্ণ হয়েছে। চোর-পুলিশ খেলার মতো বিপুল অর্থ ব্যয়ে মাঝেমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাতে নদীর কোনো উপকার হয় না। বরং ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। গুঁড়িয়ে দেওয়া স্থাপনা পড়ে থেকে নদীর ভরাট প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ দখলদাররা আবার স্থাপনা তৈরি করতে শুরু করে। গত মাসেও অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে এমন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এরই মধ্যে আবার সেখানে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের স্থাপনা। অনেক প্রভাবশালী অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে সেগুলো ভাড়াও দিতে শুরু করেছে। তাহলে এমন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে লাভ কী?

জানা যায়, গত মাসের অভিযানে যেসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সেখানে অর্থাৎ নদীর জায়গাতেই পড়ে রয়েছে। কেউ কেউ সেগুলো নদীর বুকে ঠেলে দিয়ে আবার স্থাপনা তৈরি করছে। এতে নতুন করে নদী ভরাট হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের আবর্জনাবাহী ট্রাকগুলোকে দেখা গেছে নদীতে আবর্জনা ফেলতে। নদীর তীরে থাকা অসংখ্য কলকারখানার বর্জ্য নিয়মিতই পড়ছে নদীতে। গৃহস্থালি বর্জ্যেরও একটি বড় অংশ আসছে নদীতে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক নিয়মেও ভরাট হচ্ছে নদী। অভিযানের সময় বলা হয়েছিল, নদীর তীর ধরে ওয়াকওয়ে, ইকো পার্ক, ফুলের বাগান নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না। উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য জায়গা না পাওয়ায় তারা সেগুলো সরাতে পারছেন না। এটি তো অভিযান শুরুর আগেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। জানা গেছে, বর্তমান প্রকল্পে নদীখননের কোনো পরিকল্পনা নেই। নদী ভরাট হয়ে গেলে ওয়াকওয়ে উদ্যান কী কাজে আসবে তা-ও আমাদের বোধগম্য নয়।

উচ্চ আদালত থেকে দফায় দফায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বুড়িগঙ্গা রক্ষার জন্য পরিবেশবাদীরা অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন। কিন্তু বারবারই উচ্ছেদ অভিযানের নামে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আমরা চাই না, বর্তমান উচ্ছেদ অভিযান ও বুড়িগঙ্গা উদ্ধার প্রকল্প সে রকম কোনো লোক-দেখানো উদ্যোগে পরিণত হোক। অবিলম্বে আবার দখলদারি বন্ধ করতে হবে। যারা এসব করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সিটি করপোরেশন ময়লা দিয়ে নদী ভরাট বন্ধ করুক। সর্বোপরি নদীখননের মাধ্যমে দ্রুত বুড়িগঙ্গার নাব্য ফিরিয়ে আনা হোক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা