kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বই রাজ্য

অনলাইন বুকশপের কারখানা

পাঠকদের দোকানে গিয়ে বই কেনার সমস্যার সহজ সমাধান অনলাইন বইয়ের দোকানগুলো। অনলাইনে ক্লিক করেই বই বাছাই করা যায়, কেনা যায়। ফরমাশ দিলে বই পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট ঠিকানায়। কয়েকটি অনলাইন বইয়ের দোকানের খবরাখবর জানাচ্ছেন মুসাররাত আবির জাহিন

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



অনলাইন বুকশপের কারখানা

রকমারি ডটকম

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে এই সাইট থেকে শুধু বই কেনা গেলেও এখন ডিভিডি, ভিডিও টিউটরিয়াল, ক্রীড়াসামগ্রী, অন্য রকম বিজ্ঞান বাক্স (বিজ্ঞান পরীক্ষণের কিট), ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, পেনড্রাইভ, কম্পিউটারের নানা ধরনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। আগে শুধু সাইট থেকে বই অর্ডার করা গেলেও এখন অ্যাপের মাধ্যমেও অর্ডার করা যায়।

১০০টি বই নিয়ে শুরু করা এই অনলাইন বইয়ের দোকানে বর্তমানে এক লাখ ৭০ হাজার বই আছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বই বিক্রি হয়। এর কর্মীসংখ্যা ১৩০ জনের বেশি।

বইয়ের কাভারের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়বস্তু দেখার সুযোগ করে দেয় সাইটটি। দেখা যায় বই সম্পর্কে ছোট রিভিউও। বাংলাদেশি লেখকদের পাশাপাশি পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের বইও। ৫০ টাকা পরিবহন খরচের বিনিময়ে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন পছন্দের বই। বিভিন্ন উপলক্ষে আছে ছাড়ের ব্যবস্থাও।

ঠিকানা : www.facebook.com/rokomari/

অবসর

অবসরের আত্মপ্রকাশ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। নতুন বছর, বইমেলা বা লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ছাড় থাকে। ছাড় দেওয়ার আরেকটি বিশেষ পদ্ধতিও আছে। প্রতিবার বই কেনার পর বইয়ের মূল্যের সমপরিমাণ পয়েন্ট পুরস্কার দেওয়া হয় পাঠককে। অর্থাত্ ৫০০ টাকার বই কিনে একজন পাঠক পাবেন ৫০০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট। ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় অর্ডার করলে এই রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যাবে (১০০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট=১% অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট)। অর্থাত্ একজন প্রথমবার ৫০০ টাকার বই কিনে পরের অর্ডারে ৫% অতিরিক্ত ছাড় পাবেন। এক অর্ডারে সর্বোচ্চ ২৫০০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন, অর্থাত্ ২৫% অতিরিক্ত ছাড় পেতে পারেন।

এই মুহূর্তে রাজশাহীতে তাদের চারটি ফ্রি বই সংগ্রহের পয়েন্ট রয়েছে। রাজশাহী শহরের পাঠকরা এর পেজে বা ফোনে অর্ডার করে এসব জায়গা থেকে ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই বই সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য জায়গায় তারা ‘ডাকমামা’-র সাহায্যে ডেলিভারি করে থাকে। অন্যান্য জেলা শহরে পাঠায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। ঢাকায় ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং অন্যান্য জেলা শহরে ৭২-৯৬ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত বই পৌঁছে দেয়। অনলাইনে বইয়ের দাম বেশি হয়—এ ধারণা থেকে পাঠকদের বের করে আনতে চাচ্ছে অবসর। তাদের ট্যাগলাইনই হচ্ছে ‘চধু খবংং, জবধফ গড়ত্ব’

ঠিকানা : www.facebook.com/Obosor.Books/

পেপারকাট বুকস

পেপারকাট বুকসের শুরুটা ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে। সাধারণত পেজের জন্মদিন, নতুন বছর এবং ক্লিয়ারেন্স সেলের সময় বড় রকমের ছাড় দেওয়া হয়। সারা দেশে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকলেও শুধু ঢাকায়ই সরাসরি টাকা দিয়ে বই সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। পেজে মোটামুটি সব ধরনের প্রিন্টের বই পাওয়া যায়। বইয়ের দাম ১০০-৪০০ টাকার মধ্যে। প্রতি অর্ডারের সঙ্গে একটা করে বুকমার্কও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সারপ্রাইজ প্যাকেটও আছে, যেখানে বইয়ের নাম না দিয়ে কিছু সূত্র দেওয়া থাকে, পেজে সেগুলো দেখে অনুমান করে অর্ডার দেবে। হাতে বই পেলে বুঝবে অনুমান ঠিক ছিল কি না।

এই বুকশপ ‘সেফ পেপার’ নামের একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে নাম-পরিচয় গোপন রেখেই নিজের না-বলা কথাগুলো তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে।

ঠিকানা : www.facebook.com/papercut.book/

গ্রন্থময়

২০১৯-এর জুলাই মাসে আত্মপ্রকাশ করা এই পেজ প্রতি মাসে একবার করে ক্লিয়ারেন্স সেলের আয়োজন করে। ঢাকাসহ দেশের যেকোনো স্থানে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই সরবরাহ করা হয়।

সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষ তাদের থেকে বই কিনে থাকলেও ১৬-৩০ বছর বয়সী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। পেজের মূল উদ্দেশ্যই হলো পাঠকদের পূর্ণ তৃপ্তির জন্য ভালো মানের বই সরবরাহ করার চেষ্টা করা।

ঠিকানা : www.facebook.com/gronthomy2019/

এপিলোগ

এপিলোগের শুরুটা ২০১৭ সালের শেষের দিকে। তাদের কাজ শুধু অরিজিনাল বই নিয়েই, তাই যখন যুক্তরাজ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বইয়ে ছাড় দেওয়া হয়, তখনই তারাও ছাড় দেয়। প্রতিটি বই বাবল র্যাপ দিয়ে প্যাকেজিং হয়। বইয়ের দাম ৩০০-৪০০ টাকা থেকে আরম্ভ।

যেসব বইয়ের চাহিদা বেশি, সেগুলা ছাড়াও শিশুদের বই অনেক আনা হয়। তাঁরাই প্রথম বাংলাদেশে বিদেশি লেখকদের স্বাক্ষর করা বই আনা শুরু করেছিলেন।

ঠিকানা : www.facebook.com/epilogue.bd/

বুকস্ট্রিট

অনলাইন বুকশপগুলোর মধ্যে বুকস্ট্রিট বেশ পুরনো। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট থেকে তারা কাজ করে আসছে।

সাধারণত সারা বছরই সর্বোচ্চ ছাড়ে এখানে বই বিক্রি হয়। তার পরও বইমেলা, ঈদ, শারদীয় দুর্গাপূজা, বুকস্ট্রিটের বর্ষপূতি উপলক্ষে বিশেষ কিছু ছাড় দেওয়া হয়। ঢাকায় হোম ডেলিভারি ও পেমেন্ট ক্যাশ অন ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকলেও ঢাকার বাইরে ও অন্যান্য জেলায় অগ্রিম পেমেন্ট সাপেক্ষে কুরিয়ারে বই পাঠানো হয়।

ঠিকানা : www.facebook.com/bookstreetbd/

 

বইওয়ালা

৪ ডিসেম্বর, ২০১৮-তে চালু হয় ‘বইওয়ালা’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেখকদের জন্মদিনে বইয়ের ওপর ছাড় দিচ্ছে নিয়মিতই। তা ছাড়া তাদের ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক পেজের ফলোয়ার ১০০০, ২০০০—এরূপ মাইলফলক পার করলে বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে। প্রতিবছরই কোনো না কোনো অফার লেগেই থাকে, যেমন—নির্দিষ্টসংখ্যক বই কিনলে ফ্রি ডেলিভারি অথবা বুকমার্ক ফ্রি ইত্যাদি। আপাতত খুলনা, বরিশাল, সিলেট এবং ঢাকার বসুন্ধরা রেসিডেনশিয়াল এরিয়ায় ক্যাশ অন ডেলিভারি দিচ্ছে। বাকি জায়গাগুলোতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়। তবে সে ক্ষেত্রে তারা আগেই অনলাইনে বইয়ের দাম নিয়ে নেয়। এখানে বেশ সুলভ মূল্যে ইংরেজি বই পাওয়া যায়। দাম হয় ৯৯-১৯৯ টাকার মধ্যেই। বাংলা বইগুলোর দাম প্রকাশনীর ওপর নির্ভর করে।

ঠিকানা : www.facebook.com/boiwalaa/

পিয়ন

‘এই পৃথিবী বইয়ের হোক’ স্লোাগান নিয়ে অনলাইনে যাত্রা শুরু করেছে একবিংশ শতাব্দীর পিয়নরা। চার বন্ধু মিলে এ ব্যবসা শুরু করেন। এরই মধ্যে একজন হাল ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন।

মাত্র ২০ টাকা খরচ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, আইআইইউসি, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে বই ডেলিভারি দিয়ে থাকেন তাঁরা। এ ছাড়া ঢাকার শাহবাগ মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, আজিমপুর এবং চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়, হালিশহর, চকবাজার কেয়েরির সামনে, জামালখান মোড়, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ মোড়, আগ্রাবাদ সিডিএ, বড়োপোল মোড়, নয়াবাজার মোড়, এ. কে. খান মোড়, ফ্রি পোর্ট মোড়, কাটগড় এলাকায় একই খরচে বই পৌঁছে দেয় পিয়ন।

অনলাইনে বই অর্ডার দেওয়া যাবে পেজে কমেন্ট করে, পেজে দেওয়া নম্বরে কল দিয়ে কিংবা মেসেজ দিয়ে।

ঠিকানা : https://www.facebook.com/peononline/

 

আজকাল কমবেশি সবাই অনলাইনে বইয়ের অর্ডার দিয়ে থাকেন। ভিকারুননিসা নূন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রমির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সে প্রায়ই অনলাইন থেকে বই কেনে। বইয়ের মান সাধারণত ভালোই থাকে, যদি বইয়ে কোনো সমস্যা থাকে, পেজের কর্তৃপক্ষই তা বদলে দেয়। তবে কখনো কখনো বই পেতে পেতে এক-দুই মাস দেরিও হয়ে যায়! ফেনীতে থাকা ইকরা জানাল, অনেক সময় দেখা যায় বইগুলোর প্যাকেজিংয়ে সমস্যা থাকে, কখনো বই-ই বদলে যায়! বেশির ভাগ অনলাইন বইয়ের দোকান ক্ষতিপূরণ দিলেও কিছু কিছু পেজ ক্ষতিপূরণ দিতে চায় না। স্কলার্সহোমের ছাত্রী আইরিনের মতে, এখন অনলাইন বইয়ের দোকান ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্য তাদের কাজের মান বাড়াচ্ছে, তাই আজকাল এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায় না। সময় বাঁচাতে অনলাইন বুকশপের কোনো জুড়ি নেই, তাই অনেকের কাছেই এগুলো হয়ে উঠছে বিশ্বস্ত বন্ধু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা