kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

অবাক পৃথিবী

জায়গাগুলো সত্যিই আছে!

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জায়গাগুলো সত্যিই আছে!

পিরামিড বা চীনের প্রাচীর দেখে মুগ্ধ হলেও একেবারে অবিশ্বাস্য মনে হয় না। তবে বিশ্বে এমন কিছু স্থান আছে, যেগুলো দেখলে প্রথমে ফটোশপের কাজ বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে। প্রকৃতির এমনই কিছু বিচিত্র খেয়ালের কথা জানাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক

 

জ্বলজ্বলে লেক

এমনিতেই অসাধারণ সব সৈকতের জন্য থাইল্যান্ড বেশ নামকরা। তবে এর চেয়েও বড় আকর্ষণ লুকিয়ে আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এর কিছু সৈকতে। যেখানকার পানিতে মিশে আছে বায়োলুমিনেসেন্ট আণুবীক্ষণিক প্লাংকটন। যেগুলোর কারণে রাত হলেই নীলাভ আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ে পানিতে। প্লাংকটনগুলোর ভেতর যে উপাদানগুলো আছে, সেগুলো কিন্তু জোনাকি পোকার মধ্যেও দেখা যায়। এ কারণে পানির মাঝে মিটি মিটি জ্বলতে-নিভতে থাকা আলোর আভা দেখে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতেই হয়।

 

পাথুরে গোলাপ

বস্তুটা পাথরও নয়, গোলাপও নয়। কিন্তু দেখতে তো এমনই! রাসায়নিক নামটা হলো জিপসাম কিংবা ব্যারিট। বস্তুটি যখন বালি কিংবা লবণের সঙ্গে জোট বাঁধে, তখনই এটি বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ে যেতে থাকে। আর তখনই তৈরি হয় দারুণ এ বিন্যাস। গোলাপের মতো দেখতে পাথুরে টুকরাগুলোর প্রতিটি ‘পাপড়ি’ চার ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। মেক্সিকো ও তিউনিশিয়ায় এগুলোর দেখা পাওয়া যায় বেশি। এ গোলাপের আরেকটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো, অতিবেগুনি রশ্মির নিচে রাখলেই এ পাথুরে গোলাপ থেকে স্বচ্ছ একটা সাদা আলো প্রতিফলিত হতে থাকে।

 

রংধনুগাছ

প্রথমে দেখেই ভাববে, গাছের মধ্যে এভাবে রং করল কে? এত এত রং নষ্টই বা করল কেন? এরপর যদি কেউ বলে, রেইনবো ইউক্যালিপটাস নামের গাছগুলোর স্বাভাবিক রংই এটা, তবে চোখ কুঁচকে ভাববে—এত দিন এর কথা শুনিনি কেন? এ গাছের নাম সপ্তাশ্চর্যের তালিকায়ই বা বাদ পড়ল কী করে! ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে দেখা পাওয়া যায় বর্ণিল এ বৃক্ষের। কিভাবে এমন রং পেল ওরা? গাছটির বাকলে থাকে ক্যামবিয়াম কোষ। এগুলোতে ক্লোরোফিলের পরিমাণ থাকে বেশি। যার কারণে সাধারণত গাছের পাতা সবুজ হয়। বড় হতে হতে ওই ক্যামবিয়াম কোষে মিশতে থাকে ট্যানিন নামের আরেকটি রাসায়নিক। এই ট্যানিনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে বাকলের রং লাল থেকে বাদামি হতে শুরু করে। এরপর বাকলের আর্দ্রতা ও অন্যান্য রাসায়নিকের সমন্বয়ে দেখা দিতে থাকে অন্য রংগুলোও। একপর্যায়ে মনে হবে, গাছের গায়ে যেন জুড়ে বসেছে রংধুন।

 

জমাট বুদবুদ

পানির নিচে বাতাস ছেড়ে দিলে সেটা বুদবুদ হয়ে ওপরে উঠে যাবে—এটাই তো নিয়ম। কিন্তু কানাডার আলবার্টার লেক আব্রাহামের হিসাবটা একটু আলাদা। কৃত্রিমভাবে তৈরি এ লেকের তলার দিকটার তাপমাত্রা বেশি, আবার ওপরের দিকের তাপ হিমাঙ্কের নিচে। তাই লেকের তলদেশ থেকে যে মিথেন গ্যাস বের হয়, তা আর ওপরের স্তর পর্যন্ত উঠে বের হতে পারে না। উঠতে না উঠতেই গ্যাসের বুদবুদগুলো জমে বরফ হয়ে যায়। ফলাফল ছবিতে দেখতেই পাচ্ছ। ক্যামেরায় লেকটির ছবি তুললেই মনে হবে যেন কেউ বুঝি রংতুলি দিয়ে আকাশি নীল বৃত্তগুলো এঁকেছে।

 

সাবধান, বরফের ফলা!

ওপর থেকে পড়লেই একেবারে এফোঁড়-ওফোঁড়। বরফের ছুরি বলে এদের। আরেক নাম পেনিটেনটিস। অনেক উঁচুতে বরফ থাকলেই তৈরি হয় এমন ফলা। তবে এই বরফ-ছুরির জঙ্গল দেখতে যেতে হবে চিলি ও আর্জেন্টিনার সীমানা বরাবর আন্দিজ পর্বতমালায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে চার কিলোমিটার ওপরের দিকে বাতাস যেখানে বেশ শুষ্ক সেখানেই তৈরি হয় এমন বরফের তরবারি। প্রক্রিয়াটা বেশ মজার। সূর্যের তাপে সেখানকার বরফ গলে না গিয়ে সরাসরি বাষ্প হতে থাকে। এ প্রক্রিয়ার নাম সাবলিমেশন। এতে বাষ্পটা আবার বেশিদূর না গিয়ে জমতে জমতে সুচালো আকার নেয়। একপর্যায়ে তলার বরফ গলে আবার ওপরে গিয়ে জমাট বেঁধে হয়ে যায় বরফের ফলা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বরফের এমন অদ্ভুত আচরণের পেছনে কার্বনের হাত থাকতে পারে। ওই বরফের ভেতর থাকা কার্বনের অপদ্রব্যগুলো সূর্যের তাপ শুষে নেয় বলেই বাষ্পগুলো চোখা বরফের আকারে জমে যায়।

 

ছোপওয়ালা লেক

বিচিত্র এ লেকের দেখা মিলবে কানাডার পশ্চিমের প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকানাগান উপত্যকার কাছে। বর্ষা মৌসুমে যখন পানি থাকে, তখন আট-দশটা সাধারণ লেকের মতোই। কিন্তু শুকিয়ে আসতে থাকলেই এ লেকের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠতে শুরু করে। এর তলদেশে থাকা নানা ধরনের খনিজের কারণে পানি শুকিয়ে গেলেই ফুটে ওঠে চাকতির মতো রঙের বৃত্ত। এর নামও তাই ‘স্পটেড লেক’ তথা গোল ছোপওয়ালা লেক। তলায় ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও টাইটেনিয়াম থাকার কারণেই লেকটির এত বাহার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা