kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

সাম্প্রতিক

বই সংগ্রহে মুসলিম মনীষীদের অনুরাগ

হাফেজ রিদওয়ানুল কাদির উখিয়াভী   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পড়ার প্রতি ইসলামে যত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তা অন্য কোনো ধর্মে কল্পনাও করা যায় না। মানব জাতির প্রতি ইসলামের প্রথম ঐশী নির্দেশনাই ছিল 'ইকরা' তথা পড়ো। পড়ার প্রতি কোরআন-হাদিসের অসংখ্য স্থানে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভালো বই পুরো সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, শোষণ, নিপীড়ন বিদূরিত করতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই তো মানব জাতির প্রতি প্রেরিত শাশ্বত সংবিধান পবিত্র কোরআনের প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই এ গ্রন্থ সরল পথের দিকনির্দেশনা প্রদান করে' (ইসরা)। হাদিস শরিফে বিবৃত হয়েছে, 'অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে অতিরিক্ত জ্ঞানার্জনে প্রবৃত্ত হওয়া খোদাভীতির সম্পূরক। জ্ঞানার্জনে নিস্পৃহ হওয়া অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত না হওয়ারই বহিঃপ্রকাশ। ' (কাশফুল বারী-১৪১)

মুসলিম মনীষীদের বই সংগ্রহের প্রতি অনুরাগ

তৎকালীন যুগে বই সংগ্রহ করা ছিল শখ আর আভিজাত্যের প্রতীক। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণত ধনকুবের ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে বই সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। দ্বাদশ শতকে একটা মাঝারি সাইজের বইয়ের দামও ছিল প্রায় ২০০ ডলার। মোটামুটি বিত্তশালী ও বিদ্বান ব্যক্তিও সারা জীবনে মাত্র সামান্য কয়েকটা বই সংগ্রহ করতে পারতেন। যেসব উইল সংরক্ষিত আছে, তাতে দেখা যায়, ১০-২০টা বইয়ের উইলের কথা। দশম শতকে ২০০টি ভেড়া ও তিন ডুলি ধানের বিনিময়ে একটা বই বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে একটা সুরম্য অট্টালিকা ও কিছু দ্রব্যসামাগ্রী দিয়ে একটা বাইবেল বিক্রি হয়। চতুর্দশ শতকে দুই খণ্ডে সমাপ্ত 'মিসাল' বিক্রি হয়েছিল ২০০ স্বর্ণ ফ্রাঙ্কে। এর এক শতাব্দী আগে অন্য একটি গ্রন্থ বিক্রি হয়েছিল একটা বেশ বড়সড় আঙুরের ক্ষেতের বিনিময়ে।

তাবলিগ জামাতের দ্বিতীয় বিশ্ব আমির হজরতজি ইউসুফ (রহ.) যেকোনো শাস্ত্রের গ্রন্থ সংগ্রহে তাঁর বর্ণনাতীত ঝোঁক ছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সংগ্রহে প্রিয় থেকে প্রিয় সম্পদও ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। নিজের পরিধানের কাপড় বিক্রি করে বই ক্রয় করার নজিরও স্থাপন করেছেন তিনি। এর পরও তাঁর পিপাসা নিবৃত্ত হতো না। যত চড়ামূল্যেই হোক না কেন, সেটাকেই তিনি সস্তা মনে করতেন। জ্ঞানের প্রতি তাঁর এই নিমগ্নতা ও গ্রন্থ সংগ্রহের প্রবল ঝোঁকের ফল এই হয়েছিল যে মৃত্যুর সময় তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ৪০ হাজার গ্রন্থের বিশাল সংগ্রহ ছিল।

বর্তমান ইসলামী বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি, সাবেক চিফ জাস্টিস আল্লামা তাকী উসমানী তাঁর প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম করাচির প্রধান গ্রন্থাগারে ৫০ হাজারের উর্ধ্বে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সংগ্রহ করেন।

আবদুর রহমান কসরি (রহ.) ও শায়েখ আহমদ হিজাজ (রহ.)-এর বই সংগ্রহে এত বেশি আগ্রহ ছিল যে তাঁরা ভালো বই পেলে হাতে কেনার মতো টাকা না থাকলে পরিধানের কাপড় বিক্রি করে হলেও তা কিনে নিতেন।

ক্বারি সিদ্দিক (রহ.) মিষ্টি কিনতে বের হয়ে পথে বইয়ের দোকানে একটি ভালো বই দেখতে পান। পরে মিষ্টির পরিবর্তে তিনি বই নিয়ে ঘরে ফিরেন।

আল্লামা মুহাম্মদ আমিন ইবনে আবেদিন (রহ.)-এর কাছে সে যুগের সব বিষয়ের সর্বাধিক গ্রন্থ সংগ্রহে ছিল।

আল্লামা সনদ বিন আলী (রহ.) উত্তরাধিকারে প্রাপ্ত ঘোড়া বিক্রি করে বই সংগ্রহ করেন।

আল্লামা জমখশারী (রহ.) বলেন, 'গ্রন্থভাণ্ডারে আলেমের মর্যাদা সংরক্ষিত থাকে। ' মূলত একটি বই একজন উত্তম বন্ধু ও উত্তম অভিভাবক। বই হলো জ্ঞানের জগতে প্রবেশের দরজা। বলা হয়ে থাকে 'যতই পড়িবে ততই শিখিবে। '

সুহৃদ! জগৎখ্যাত মুসলিম মনীষীদের এসব ইমানজাগানিয়া ঘটনা আমাদের বই অধ্যয়ন ও সংগ্রহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। তাই আসুন! বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা-১৫ থেকে চমৎকার এবং মননশীল বই নিজে সংগ্রহ করি এবং অন্যকেও সংগ্রহ করতে উদ্বুদ্ধ করি।

[email protected]

 

 

 

 



সাতদিনের সেরা