জলাবদ্ধতায় নাকাল সাততলা বস্তিবাসী নিজেরাই তৈরি করেছিল নর্দমা। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং নিজেদের টাকায় বানানো হয় সেই নর্দমাটি। কিন্তু নর্দমা পরিষ্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ না থাকায় তা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। অন্যসব এলাকায় নর্দমা নির্মাণ এবং পরিষ্কারের কাজ সিটি করপোরেশন করলেও সাততলা বস্তিতে নজর পড়েনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। এমনকি সাততলা বস্তিতে নর্দমা রয়েছে এ বিষয়টিও অজানা খোদ ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাখালীর সাততলা বস্তিতে এখনো পানিবন্দি বেশ কয়েকটি পরিবার। কোনো কোনো ঘরে এখনো টলমল করছে পানি। পয়োবর্জ্য পানিতে মিশে সৃষ্টি করেছে মারাত্মক দুর্গন্ধ। এ দুর্গন্ধের মধ্যেই ইটের পাটাতনে স্টোভে রান্না করছে গৃহিণীরা। চেয়ারের ওপরে চুলা রেখে রান্না করতেও দেখা গেছে কয়েকটি পরিবারকে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো ফল পায়নি বস্তিবাসী। সাততলা বস্তির বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া বলেন, ‘ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্নাও বন্ধও। বাড়ির আসবাবপত্র বিছানার ওপর ওঠাতে বাধ্য হয়েছি। দুর্গন্ধে আমার স্ত্রী খাদিজা দুই দিন ধরে অসুস্থ।’ বস্তিবাসী আরো জানায়, বস্তিতে টাকার বিনিময়ে ঘর ভাড়া নিতে হয়। প্রতিটি ঘরের মালিক বস্তির প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ছাড়া কোনো কোনো ঘরের মালিক ভাড়া আদায় করলেও নিজেরা থাকে বস্তির বাইরে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঘরের মালিক এবং সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া নর্দমার মুখে ঘর বানিয়েছে বস্তির প্রভাবশালী কয়েকজন। তাই বন্ধ হয়ে গেছে নর্দমার মুখ। বস্তির বাসিন্দা সেলিনা আলী বলেন, এনজিও ও নিজেদের টাকায় বস্তির নর্দমা পরিষ্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু প্রভাবশালী কয়েকজনের অসহযোগিতায় তা শেষ করা যায়নি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলকে ফোন করলে তিনি শ্রমিক পাঠান। কিন্তু সিটি করপোরেশন নর্দমা পরিষ্কারের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয় না। জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ হয়ে সাততলা বস্তির বাসিন্দারা একটি এনজিওর সহযোগিতায় নর্দমা তৈরি করে দুই বছর আগে। অন্য এলাকার নর্দমা তৈরি এবং পরিষ্কারের কাজ সিটি করপোরেশন করলেও সাততলা বস্তির নর্দমাটি সব সময় থাকে অপরিষ্কার। এ ছাড়া বস্তিটিতে নতুন করে কোনো নর্দমা তৈরিও করা হয়নি সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে। ডিএসকে নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘সাততলা বস্তিতে নর্দমা নির্মাণের জন্য কোনো প্রকল্প নেই। তবে বস্তিবাসীর দুরবস্থা দেখে আমরা অন্য একটি প্রকল্পের টাকা দিয়ে নর্দমা করে দিয়েছি। কিন্তু নর্দমা পরিষ্কারের জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ রাখা হয়নি।’ সিটি করপোরেশনের দাবি, বস্তি নিচু এলাকা হওয়ায় কোনো নর্দমা তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া বস্তিবাসীর উদ্যোগে বানানো নর্দমা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরও করা হয়নি। এমনকি সাততলা বস্তিতে নর্দমা রয়েছে—এ বিষয়টিও কর্মকর্তাদের অজানা। সাততলা বস্তির জলাবদ্ধতার বিষয়ও জানা নেই তাঁদের। ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একরামুল হক খন্দকার বলেন, ‘সাততলা বস্তি নিচু এলাকা। ওই বস্তিতে ড্রেন কিভাবে বানানো হলো? এ ছাড়া ওই বস্তিতে ড্রেন আছে তা জানা নেই আমার। খোঁজ নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) বলতে হবে।’ ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বস্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’