রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা আগারগাঁও-শ্যামলী লিংক রোডের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। বছরের পর বছর এ রকম চললেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। অবৈধভাবে ফুটপাত দখলে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। আগারগাঁও-শ্যামলী লিংক রোডটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে এখানে রয়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, শিশু হাসপাতাল, শিশু মেলা। বিপরীত পাশে রয়েছে জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল। এ ছাড়া পাসপোর্ট অধিদপ্তর, নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরও রয়েছে এই এলাকায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার ফুটপাত দখল করে দেওয়া হয়েছে খাবার হোটেল, ওষুধের দোকান, ফলের দোকান, জুতার দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। সড়কের দুই পাশে বসানো হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের দোকান। এসব দোকানের মূল ক্রেতা হলেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু), ঢাকা শিশু হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের রোগীরা। এই সড়কে দুটি যাত্রীছাউনি বানানো হলেও সেটি দখল হয়ে আছে। যাত্রীছাউনিগুলোতে বসার কোনো জায়গা নেই। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সামনের যাত্রীছাউনির ভেতর বসানো হয়েছে ওষুধের দোকান। এর পাশে রয়েছে খাবারের হোটেল। এ ছাড়া জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সামনের যাত্রীছাউনির ভেতরে রয়েছে দুটি ওষুধ ও একটি চিকিৎসা সরঞ্জামের দোকান। সরেজমিনে দেখা গেছে, দোকানপাটে ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীদের জন্য চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়কের দক্ষিণ পাশে শিশু হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে দিনের কিছু সময় বসে ছোট ছোট ভাসমান দোকান। তাতে থাকে স্বল্পমূল্যের চাদর, কাপড়, বাচ্চাদের খেলনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পসরা। এসব ভাসমান দোকানে মূলত এ সড়কের আশপাশে থাকা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরাই বেশি কেনাকাটা করে থাকেন। দুর্ভোগের বিষয়ে কথা হয় জয় ফার্মেসির এক বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ এলাকা অনেক জনবহুল। লোকজনের ভিড় তো থাকবেই। হাসপাতালের পাশেই আমাদের ফার্মেসি থাকায় রোগীর স্বজনরা সহজেই ওষুধ কিনতে পারেন। আমরা তো কোনো দুর্ভোগ সৃষ্টি করছি না।’ কামাল সার্জিক্যাল স্টোরের মালিক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ক্রেতারা যখন দেখতে চায়, তখন ভেতর থেকে কিছু সরঞ্জাম এনে বাইরে রাখা হয়। পরে আবার সরিয়ে ফেলি।’ ফুটপাতে দোকান দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কী করব বলুন? কোনো বড় জায়গায় যে দোকান দেব, আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই। তাই কষ্ট করে এখানেই ব্যবসা করছি। তবে আমরা মানুষকে কোনো দুর্ভোগে ফেলছি না। সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করি।’ জনদুর্ভোগ প্রসঙ্গে শিশু হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসার জন্য আসা মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেডের বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, ‘এই রাস্তায় রিকশা চলাচল কম। শিশু মেলার এখানে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে নেমে গেছি; কিন্তু ফুটপাত ধরে যে হাঁটব, সে উপায়ও নেই। রাস্তা ধরে হাঁটব, সেখানেও যানজট। পরে এই ভোগান্তি মেনে নিয়েই হাসপাতালে এসেছি।’ দুর্ভোগ প্রসঙ্গে চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খিলগাঁওয়ের মাকসুদুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকায় সব সময় যানবাহনের ভিড় থাকে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটাচলা করা যায় না। এ ছাড়া রাস্তায় কোনো ফুট ওভারব্রিজও নেই। এ সড়ক দিয়ে চলাচলে খুবই কষ্ট হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এসব দোকানের কারণে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সমস্যা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’ সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট সম্পর্কে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু) কর্মরত একজন আনসার সদস্য বলেন, ‘ফুটপাতে দোকানপাট বসতে আমরা নিষেধ করি; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। উঠাই দিলেও আবার আইসা বসে। আমাগো কথা শুনতে চায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘দোকানগুলো উচ্ছেদের জন্য একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন বা জেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে; কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই অবস্থা আগের মতো হয়ে যায়।’ ঢাকা শিশু হাসপাতালের একজন মেডিক্যাল অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা চাই ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানের উপদ্রব বন্ধ হোক। প্রশাসনকে যদি কোনো সহায়তা করতে হয় আমরা তা করতে রাজি আছি।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়টি আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। আমরা প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার কোনো না কোনো জায়গায় অভিযান চালাই; কিন্তু অভিযান শেষ হতে না হতেই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। শুধু উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে হবে না, আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’ এ বিষয়ে শেরেবাংলা থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘বেশ কয়েকবার থানা পুলিশ ফুটপাতের ওই সব দোকান উচ্ছেদ করেছে। প্রয়োজনে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’