kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আফগান নারীদের বিক্ষোভকালে তালেবানের ফাঁকা গুলি

ইরানের হিজাববিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগান নারীদের বিক্ষোভকালে তালেবানের ফাঁকা গুলি

ইরানে পুলিশ হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে এবং দেশটিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গতকাল তুরস্কের রাজধানী আংকারায় বিক্ষোভ করেন একদল নারী। ছবি : এএফপি

ইরানের চলমান হিজাববিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আফগান নারীরা গতকাল রাজধানী কাবুলে মিছিলে নামে। গতকাল বৃহস্পতিবার কাবুলে সেই মিছিল চলাকালে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় তালেবান।

পুলিশ হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি হত্যার প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে গতকাল কাবুলে বিক্ষোভ করে আফগান নারীরা। নানা বক্তব্য সংবলিত ব্যানার ছিল তাদের হাতে।

বিজ্ঞাপন

ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ইরান জেগেছে, এখন আমাদের জাগতে হবে’ এবং ‘কাবুল থেকে ইরান—স্বৈরতন্ত্রকে না বলুন’।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তালেবান কর্তৃপক্ষ গুলি চালানোর আগে কাবুলে ইরান দূতাবাসের সামনে প্রায় ২৫ জন নারী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ইরানের আন্দোলনকারীদের মতো ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগান দেন তাঁরা।

ইরানের মতো আফগানিস্তানেও বর্তমানে কঠোর পর্দা প্রথার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে নারীদের। কট্টর ইসলামপন্থীগোষ্ঠী তালেবান দুই দশক পর ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরে। ক্ষমতা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর পোশাক ও চলাফেরায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি একেবারে সীমিত করে। এসব দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে তালেবানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে আফগান নারীরা। সর্বশেষ ইরানে পুলিশ হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কাবুলের রাস্তায় নামে তারা। ইরানের ওই বিক্ষোভে ৭৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

গতকাল কাবুলের এক বিক্ষোভকারী নারী বলেন, ‘এসব ভয়ংকর সরকারের পতন হওয়া প্রয়োজন। তালেবানের অপরাধেও মানুষ ক্লান্ত। আমরা নিশ্চিত একদিন ইরানের জনগণের মতো এখানেও একইভাবে জেগে উঠবে মানুষ। ’

গণমাধ্যমের খবরে আরো বলা হয়, বিক্ষোভের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে তালেবান তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিক্ষোভের ভিডিও মুছে দেওয়ার জন্য কয়েকজন সংবাদকর্মীকে চাপ দেয় তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাবুলে বিক্ষোভের একজন সংগঠক বলেন, ‘ইরানের জনগণ এবং আফগানিস্তানের তালেবান শাসনের কারণে ভুক্তভোগী নারীদের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানাতে’ এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

ন্যাটোর প্রস্থানের পর আফগানিস্তানে পশ্চিমাপন্থী সরকার পতনের মধ্য দিয়ে তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের বিক্ষোভ অনেকাংশে কমে গেছে। নারী অধিকারের নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকর্মী এ বছরের শুরুতে গ্রেপ্তার হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের মতো এখানে যেকোনো প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা গ্রেপ্তার ও সহিংসতার ঝুঁকির পাশাপাশি জড়তায় ভোগে। সূত্র : এএফপি

 



সাতদিনের সেরা