kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পুতিনের ঘোষণার পর রুশদের দেশ ছাড়ার হিড়িক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুতিনের ঘোষণার পর রুশদের দেশ ছাড়ার হিড়িক

ফিনল্যান্ড সীমান্তবর্তী সড়কে রাশিয়া থেকে আসা গাড়ির দীর্ঘ সারি। গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

রাশিয়ার বহু নাগরিক দেশ ছাড়তে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের সীমান্তে ভিড় জমিয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে বিদেশগামী সব বিমানের ফ্লাইটের আগামী কয়েক দিনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে সামরিক প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় পরিসরে বন্দি বিনিময় হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ ৩০০ জনের মতো বন্দি বিনিময় করা হয়।

ফিনল্যান্ডের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক প্রধান ম্যাটি পিটকানিটিটি তাঁদের সীমান্তে রুশদের আগমনের সংখ্যা স্পষ্টতই বেড়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থাটি জানায়, মোট চার হাজার ৮২৪ জন রুশ নাগরিক গত বুধবার রাতে সীমান্তে পৌঁছান।

এক পর্যটন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, রুশদের জন্য ভিসামুক্ত দেশগুলোর বিমানের টিকিটের চাহিদা বিস্ময়করভাবে বেশ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মস্কো থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। উভয় দেশেই রাশিয়ার নাগরিকরা ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পুতিনের ভাষণের দিন বুধবারই দুই গন্তব্যের কয়েক দিনের সব বিমানের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। মস্কো থেকে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসিসহ আরো কিছু রুটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। দুবাইগামী সবচেয়ে সস্তা ফ্লাইটের টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার ডলার, যা এখন একজন রুশের গড় মাসিক আয়ের প্রায় পাঁচ গুণ। তুরস্কে যেতে একমুখী টিকিটের ভাড়া প্রায় ৭০ হাজার রুবল, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২২ হাজার রুবলের কিছু বেশি।

বৃহত্তম বন্দি বিনিময়

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মরক্কোসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছে।

রুশপন্থী বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি থাকা পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যস্থতায় ওই পাঁচজনসহ মোট ১০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন ব্রিটিশ, দুজন মার্কিন, একজন ক্রোয়াট, একজন মরোক্কান ও একজন সুইডিশ রয়েছেন। তাঁরা এরই মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে সবাইকে যাঁর যাঁর দেশে ফেরত পাঠানোর কথা। পাঁচ ব্রিটিশ এরই মধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। সর্বশেষ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে দেখা গেল।

এর আগে খবরে বলা হয়, রাশিয়া সব মিলিয়ে ২১৫ ইউক্রেনীয় বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সামরিক কমান্ডার রয়েছেন। এসব বন্দির বিনিময়ে ৫৫ জন রুশ নাগরিক এবং রুশপন্থী বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের ক্ষতি এক ট্রিলিয়ন ডলার

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির আর্থিক উপদেষ্টা ওলেগ উসতেনকো। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতির বিচারে ইউক্রেনের এ মূল্যের ক্ষতি হয়েছে।

বার্লিনে জার্মান কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উল্লিখিত বক্তব্য দেন ওলেগ উসতেনকো। ক্ষতির এই বিশাল অঙ্কটি আগ্রাসন শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেনের বার্ষিক জিডিপির পাঁচ গুণের সমপরিমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রুশ বাহিনীর অনুপ্রবেশের কারণে শুধু প্রথম দুই সপ্তাহেই ইউক্রেনের আনুমানিক এক হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল এর আগে।

গতকাল আর্থিক উপদেষ্টা উসতেনকো বলেন, সংঘাতের কারণে সংঘটিত ধ্বংসলীলা ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ‘সরকারি কাজকর্মে অর্থায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না বা দিনে শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য কাজ করতে পারছে। ’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আরো বলেন, সরকারি খরচ ব্যাপক হারে কমিয়ে আনা সত্ত্বেও আগ্রাসনের পর থেকে প্রতি মাসে ৪৯০ কোটি ডলার ঘাটতিতে চলতে হচ্ছে ইউক্রেনের সরকারকে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই ঘাটতি সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

আর্থিক ঘাটতি পূরণে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে ইউক্রেনের মিত্ররা। প্রয়োজন অনুসারে শতকোটি ডলার করে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জি-৭ দেশগুলো।

উপদেষ্টা উসতেনকো জানান, চলতি বছর অর্থনীতি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করছে ইউক্রেনের সরকার। তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৯১ সালের পর এবং আধুনিক ইউক্রেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আমাদের জিডিপিতে গভীরতম পতন’। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, আলজাজিরা

 

 

 



সাতদিনের সেরা