kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ফাইজারের টিকা

দুই ডোজে আট সপ্তাহের ব্যবধান ‘সবচেয়ে কার্যকর’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই ডোজে আট সপ্তাহের ব্যবধান ‘সবচেয়ে কার্যকর’

করোনা মোকাবেলায় ফাইজারের টিকার দুই ডোজের ব্যবধান আট সপ্তাহ হলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। আট সপ্তাহের এই ব্যবধান করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধেও বেশ কার্যকর। টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাজ্যে ফাইজার-বায়োএনটেক টিকার দুই ডোজের মধ্যে এত দিন তিন সপ্তাহের ব্যবধান ছিল। গত বছরের শেষ দিকে এই ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ সরকার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই গবেষণা সরকারের সিদ্ধান্তকে আরো যৌক্তিক করে তুলবে, যদিও যুক্তরাজ্যে বর্তমানে দুই ডোজের ব্যবধান ১২ সপ্তাহ।

নতুন গবেষণাটি চালানো হয়েছে ৫০৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর। তাঁদের অনেকেই তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ফাইজারের দুটি ডোজ নিয়েছিলেন। কারো ব্যবধান ছিল আট সপ্তাহ, কারো ১২ সপ্তাহ। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা আট সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের শরীরে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গবেষকদলের সদস্য সুসানা দুনাচি বলেন, ‘অবশ্যই এক ডোজের চেয়ে দুই ডোজ বেশি কার্যকর। কিন্তু সেই কার্যকারিতার মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে দুই ডোজের ব্যবধানের ওপর।’

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফাইজারের টিকা নেওয়া ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলেও তার শারীরিক অবস্থার খুব একটা অবনতি ঘটে না। এমনকি এক ডোজ নিলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। টিকাবিষয়ক মন্ত্রী নাদিম জাহাওয়ি বলেন, ‘এই গবেষণা শুধু যুক্তরাজ্যের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।’

সিডনিতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। এক মাসের কঠোর লকডাউন দিয়েও ডেল্টা ভেরিয়েন্টকে ঠেকানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সিডনিতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্লাডিস বেরেজেকলিয়ান বলেন, ‘জাতির অংশ হিসেবে করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু সংক্রমণের গতিবিধি সঠিক পথে নেই।’ অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ১২ শতাংশ মানুষ করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। ফাইজারের টিকায় বেশি আস্থা রাখছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেখানে টিকা কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, বিশ্বের ২২০টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১৯ কোটি ৩৫ লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৪১ লাখের বেশি। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়, সাড়ে ১৭ কোটির মতো। চিকিৎসাধীন প্রায় এক কোাটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে প্রায় এক কোটি ৩৪ লাখ জনের। (৯৯.৪ শতাংশ)। বাকিদের (০.৬ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৮৩৩ জন। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা