kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডেল্টার সংক্রমণই সবচেয়ে প্রকট হবে বিশ্বে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডেল্টার সংক্রমণই সবচেয়ে প্রকট হবে বিশ্বে

আগামী দিনে সারা বিশ্বে সংক্রমণ ছড়াতে পারে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। প্রায় ১০০ দেশে এরই মধ্যে ভাইরাসের এই ধরনটির অস্তিত্ব মিলেছে। তাই বেশি সংক্রমণক্ষম এ ধরন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

করোনার ভারতীয় ধরনটির প্রথম হদিস মেলে ভারতে। জুনের মহামারিসংক্রান্ত রিপোর্টে ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, হিসাবের খাতায় এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ৯৬ দেশে ডেল্টার অস্তিত্ব মিললেও প্রকৃত সংখ্যাটা এক শর ওপরে। ভাইরাসের ধরন চিহ্নিতকরণের জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা বহু দেশেই নেই। ফলে ডেল্টা সংক্রমিত দেশের আসল সংখ্যা সামনে আসছে না। কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু দেশে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে করোনায় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর সামনে আসছে। ডেল্টা ধরনের জন্যই যে এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, রিপোর্টে তা জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও।

ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ রুখতে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা এবং শারীরিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখার কথা বলেছেন ডাব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, ডেল্টাই এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ধরন। যেসব জায়গায় টিকাকরণের হার কম, সেখানে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার এই ধরন।

এদিকে ডেল্টা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কার মধ্যেই ‘টিকা রাজনীতি’ নিয়ে আবার কথা বলছে ডাব্লিউএইচও। গতকাল এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে কথা বলে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের এ সংস্থা করোনাভাইরাসের যেসব টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এবং সেসব টিকা যারা নিয়েছে, তারা যেন সব দেশ ভ্রমণের অনুমতি পায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ সংস্থার মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ ভ্রমণ করতে হলে ওই দেশের নির্ধারিত টিকাই নিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে চরম বৈষম্য দেখা দেবে এবং তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে কিভাবে অসাম্য আর বিভেদ বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা এরই মধ্যে বিশ্ব দেখতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে ডাব্লিউএইচও।

ইউরোপে ফের বাড়ছে সংক্রমণ

ডাব্লিউএইচও গতকাল বৃহস্পতিবার আরো জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ। ওই অঞ্চলে প্রায় দুই মাস সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর আবার তা বাড়তে শুরু করেছে।

ডাব্লিউএইচও ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেন, গত সপ্তাহে ইউরোপে করোনায় আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। সামাজিক মেলামেশা, গণজমায়েত, ভ্রমণ, সামাজি দূরত্ব মানার বিধি-নিষেধে শৈথিল্যের কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। আগামী পরিস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিধি-নিষেধ না মানলে করোনা সংক্রমণের আরেকটি ঢেউয়ের কবলে পড়বে ইউরোপ।’ দ্রুত সংক্রমণক্ষম ডেল্টা ধরনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে ধরনটির সংক্রমণ আলফা ধরনটির সংক্রমণের হারকে ছাপিয়ে গেছে। ইউরোপের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইসিডিসির আশঙ্কা, আগস্টের শেষ নাগাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোয় নতুন করোনা রোগীদের ৯০ শতাংশের বেশির দেহে ডেল্টা সংক্রমণ পাওয়া যাবে।

জরুরি বিধি-নিষেধ আরোপ করছে ইন্দোনেশিয়া

দৈনিক সংক্রমণ ক্রমে বাড়তে থাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার থেকে এই জরুরি পরিস্থিতি কার্যকর হওয়ার কথা। চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গতকাল করোনা সংক্রমণ হ্রাসে এই জরুরি পরিস্থিতি জারির ঘোষণা দেন। করোনা পরিস্থিতির কারণেই তিনি জরুরি পরিস্থিতি জারি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। জরুরি বিধি-নিষেধের আওতায় কী কী বিষয় থাকছে তা তিনি জানাননি। তবে এক সিনিয়র মন্ত্রীর কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, জরুরি বিধি-নিষেধ জারি থাকা অবস্থায় দেশজুড়ে শপিং মল ও মসজিদ বন্ধ থাকবে, শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে অনলাইনে, জরুরি নয় এমন সব খাতের কর্মীদের হোম অফিস করতে হবে। সূত্র : এএফপি, আনন্দবাজার পত্রিকা।



সাতদিনের সেরা