kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

বৈরুতে বিস্ফোরণ

ক্ষোভের আগুন নেভাতে চান ম্যাখোঁ

লেবানন যেন ডুবে না যায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষোভের আগুন নেভাতে  চান ম্যাখোঁ

লেবাননের বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। ছবি : এএফপি

আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব কিংবা মন্ত্রীর পদত্যাগ—কোনো কিছুই লেবাননের জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর কাঁদানে গ্যাস আর রাবার বুলেটও দমাতে পারছে না ক্ষোভের আগুন। গতকাল রবিবার লেবানিজরা তৃতীয় দফা বিক্ষোভের ডাক দেয়। এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় লেবাননকে সহায়তার লক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলন।

দেশের পরতে পরতে দুর্নীতি, সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, নিম্নমুখী অর্থনীতি নিয়ে লেবানিজরা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে সরকারপক্ষের অবহেলায় গত মঙ্গলবার অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে পুরো রাজধানী বিধ্বস্ত হলে সেই ক্ষোভ নতুন করে উসকে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। মাঝখানে এক দিনের বিরতি দিয়ে গত শনিবার রাস্তায় নেমে আসে জনতা। এদিন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করে। তারা পররাষ্ট্র, অর্থনীতি ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোয় হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধদের হামলার কবলে পড়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসও। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তাদের সেসব জায়গা থেকে হটিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। বিক্ষুব্ধদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে তারা।

স্থানীয় রেড ক্রস জানায়, বিক্ষোভস্থলে ১১৭ জন আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক সেবা দিয়েছে সংস্থাটি। আরো ৫৫ জনকে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। এ ছাড়া জনতার ধাওয়া খেয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা পালাতে গিয়ে এক হোটেলে লিফটের নিচের গর্তে পড়ে মারা গেছেন।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের প্রস্তাব তোলেন। এরপর গতকাল পদত্যাগ করেন তথ্যমন্ত্রী মানাল আব্দেল সামাদ। বৈরুতের বন্দরে গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পেছনে সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের কথা জানান তিনি। 

সরকারপক্ষের কেউ কেউ মাথা নোয়ালেও তাতে জনতার ক্ষোভের আগুন স্তিমিত হয়নি। গতকাল তারা আবার বিক্ষোভের ডাক দেয়। ‘ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত কর, কারণ আমাদের ক্ষোভ এক দিনে শেষ হয়ে যায়নি’—এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহতের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার, এখনো নিখোঁজ ৬০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশায় চলছে উদ্ধার তৎপরতা। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট যেখানে বিস্ফোরিত হয়েছে, সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ১৪১ ফুট গভীর গর্ত, চওড়ায় যেটা প্রায় ৪০০ ফুট। 

লেবাননে সহায়তার বহর যেন পর্যাপ্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে গতকাল ফ্রান্স ও জাতিসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বনেতাদের ভার্চুয়াল সম্মেলন। লেবাননের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় শুরু হয় ওই সম্মেলন। চীন, রাশিয়া, মিসর, জর্দান, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।

সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ লেবাননের জনতার ক্ষোভ প্রশমনে সরকারকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশটা যেন ডুবে না যায়, সে জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। বৈরুতের রাস্তায় লেবানিজরা এই মুহূর্তে যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে, বৈধভাবে সেটার উত্তর দেওয়ার দায়িত্বও সরকারের।’ তিনি আরো বলেন, ‘সহিংসতা কিংবা অস্থিরতা যেন জোরালো হয়ে না ওঠে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা