kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

রাজনীতি সরিয়ে রেখে চীনই ভরসা যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজনীতি সরিয়ে রেখে চীনই ভরসা যুক্তরাষ্ট্রের

বাণিজ্য নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের আগের রেষারেষি আর খাটছে না। করোনাভাইরাস মহামারি পাশার দান অনেকটাই উল্টে দিয়েছে। ফরে আপাতত দ্বন্দ্ব একপাশে সরিয়ে চীনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। মাস্ক, পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্টসহ (পিপিই) বেশ কিছু সুরক্ষা পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তাদের চীনের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

আমেরিকার বাজারে চীনের মাস্কের সরবরাহ রয়েছে আগে থেকেই। করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র যত মাস্ক আমদানি করেছে, সেগুলোর অর্ধেকই গেছে চীন থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে মাস্কের চাহিদা তুঙ্গে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলো মাস্কের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে বটে, তবে তা চাহিদার তুলনায় কিছুই নয়।

এই যেমন মার্কিন কম্পানি থ্রিএম ও হানিওয়েল মাসে সাত কোটি মাস্ক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অথচ স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক দপ্তর পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার জন্য এরই মধ্যে ৫০ কোটি মাস্ক কেনার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় চীনের ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। আর এ কথা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও প্রযোজ্য।

করোনাভাইরাসবিরোধী সুরক্ষা উপকরণের সরবরাহের ব্যাপারে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শ্যাড বাউন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে, সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী চরম চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসব পণ্যের বিপুল সরবরাহের উৎস হচ্ছে চীন। আপনি যদি চীনের প্রতি বিমুখ থাকেন এবং এই মুহূর্তে চীনের কাছ থেকেই ওই সব পণ্য কেনার চেষ্টা করেন, তবে আপনার জন্য সত্যিই কোনো আশা নেই।’

চীনে করোনাভাইরাসরোধী সুরক্ষা উপকরণ উৎপাদনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বাউন জানান, এ বছর প্রথম দুই মাসে আগের তুলনায় চীনের পিপিই রপ্তানি কিছুটা কমেছে। তবে চীনের মোট রপ্তানির তুলনায় সেটা ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। সর্বশেষ হিসাব বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা মোট পিপিইর ৪৮ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) হারটা আরো বেশি। ওই অঞ্চলে আমদানি করা মোট পিপিইর ৫০ শতাংশ চীন থেকে আনা।

নির্ভরতা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে শত্রুতা বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র নিজেরই ক্ষতি করছে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে বাউন বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য আপনি কোনো একটা দেশের ওপর নির্ভরশীল। সেই দেশের বিরুদ্ধে আপনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে শত্রুতা করে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করলে আপনি আদতে নিজের সঙ্গেই শত্রুতা করবেন।’ বলা দরকার, শুধু মাস্ক বা পিপিই নয়, ওষুধ তৈরিতে প্রয়োজনীয় অনেক মৌলিক উপাদানের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে ভারতের ওপরও মার্কিন নির্ভরতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ওষধি উপকরণের ৮০ শতাংশ আসে এ দুটি দেশ থেকে। ভারতের সঙ্গে বনিবনা রাখলেও ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই চীনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের শত্রুতা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া চীনের জন্য উচিত হবে না বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পরিষদ ও সেটন হল ইউনিভার্সিটির বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়ানঝং হুয়াং। তিনি বলেন, ‘হাতিয়ারটা এখন চীনের কাছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত যে রাস্তাটা একমুখী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও হাতিয়ার আছে। নিজস্ব হাতিয়ার ব্যবহার করা কোনো দেশের জন্য বিজ্ঞোচিত নয় বলেই আমি মনে করি।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা