kalerkantho

পাকিস্তান বিশ্বকে উদ্বেগজনক চিত্র দেখাতে চায় : ভারত

জাতিসংঘের উদ্বেগ ♦ কাশ্মীরে গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক ♦ কারফিউ অব্যাহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাকিস্তান বিশ্বকে উদ্বেগজনক চিত্র দেখাতে চায় : ভারত

জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন তুলে নেওয়ার পর শ্রীনগরে কারফিউর মধ্যে বাইরে বের হওয়া এক ব্যক্তির ব্যাগ ভারতের নিরাপত্তাকর্মী তল্লাশি করছেন (বাঁয়ে)। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়ে গতকাল দিল্লিতে পদযাত্রা করেন মানবাধিকারকর্মীরা। এ সময় তাঁরা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ছবি : এএফপি

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক করে পাকিস্তানকে কাশ্মীর ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

অন্যদিকে কাশ্মীর উপত্যকায় এখন নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চলছে। গত দুই দিনে কাশ্মীরে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করে অস্থায়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিধি-নিষেধ আরোপ মানবাধিকার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাবে।

গত সোমবার ভারত কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘটনায় ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে উত্তেজনা ছড়ায়। এর দুই দিনের মাথায় গত বুধবার পাকিস্তান ইসলামাবাদে নিয়োজিত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার ও নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই অবস্থায় গতকাল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে যে বিপজ্জনক লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা কখনোই সফল হবে না। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, ভারত সরকার পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে পরিতাপের বিষয় মনে করে। একই সঙ্গে ভারত দেশটিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে, দুই দেশের স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা থাকে।

গতকাল বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতশাসিত কাশ্মীরে গত কয়েক দিনের অভিযানে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, ব্যাবসায়িক নেতা ও আন্দোলনকর্মী রয়েছেন। তাঁদেরকে আটকের পর অস্থায়ী কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হয়েছে।

কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগেই সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ঘোষণার পর মোতায়েন করা কয়েক লাখ সেনা সদস্যদের কারফিউ বলবৎ রাখতে দেখা যায়। এর মধ্যে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সড়ক যোগাযোগ সীমিত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উপত্যকায় সরকারের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আগামী সোমাবর ঈদকে সামনে রেখে এই বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

অন্যদিকে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদকে কাশ্মীরের শ্রীনগরে যেতে দেওয়া হয়নি। গতকাল বিমানে করে শ্রীনগরে যাওয়ার পর তাঁকে বিমানবন্দর থেকে বের হতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। জাতিসংঘের মুখপাত্র গতকাল টুইটারে এক বিবৃতিতে কাশ্মীরে টেলিযোগাযোগ বন্ধ রাখা, কাশ্মীরি নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে আটকাদেশ ও রাজনৈতিক সমাবেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সব বিধি-নিষেধ মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে। মুখপাত্র রুপার্ট কলবিল এক ভিডিও পোস্টে বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কিভাবে ভিন্নমত দমনে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের শাস্তি দিতে নির্বিচারে আটক এবং মাত্রাতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুরুতর জখম ঘটিয়েছে, এসব বিবরণ আছে জাতিসংঘের আগের প্রতিবেদনগুলোতেই। মুখপাত্র বলেন, চলতি সপ্তাহে নতুন যে বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে তা পরিস্থিতিকে ‘নতুন এক মাত্রায়’ নিয়ে গেছে। ‘জাতিসংঘ এখন ওই অঞ্চলে ফের টেলিযোগাযোগে বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, সম্ভবত এবারের বিধি-নিষেধ আগে আমরা যা দেখেছি তার চেয়েও তীব্র।

ফুঁসছে মানুষ : কাশ্মীরের লোকজন ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে। সেখানে বিক্ষোভরত অনেক মানুষকে ভারতীয় সেনাদের দিকে পাথর ছুড়তে দেখেছেন বিবিসির প্রতিবেদক। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য