kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

কুষ্টিয়াসহ আশপাশের সাত জেলা

হাসপাতালে নেই ভেন্টিলেটর ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা ছাড়াই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ৪০টি আইসোলেশন ও ১০০টি কোয়ারেন্টিন বেড প্রস্তুত

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়াসহ আশপাশের মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, পাবনা ও নাটোরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর মেশিন নেই। সাধারণ রোগীদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর মেশিন প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর মেশিন স্থাপনের জন্য যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) প্রয়োজন হয়—তাও নেই। ফলে এ অঞ্চলের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কোনো ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট নেই। আশপাশের জেলাগুলো থেকে এই হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগী গেলে তাদেরকে সাধারণ ওয়ার্ডে শুধু অক্সিজেন দেওয়া হয়। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, পাবনা ও নাটোরের হাসপাতাল থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রোগী আসে। কিন্তু তাদেরকেও ভেন্টিলেটরের পরিবর্তে অক্সিজেন দেওয়া হয়ে থাকে। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, কুষ্টিয়া অঞ্চলের কোনো বেসরকারি হাসপাতালেও মুমূর্ষু রোগীদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখার জন্য কোনো ভেন্টিলেটর মেশিন নেই।

চিকিৎসকরা জানান, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী চিকিৎসায় আইসোলেশন ওয়ার্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার প্রস্তুত করা হলেও সেখানে কোনো আইসিইউ নেই। ফলে আইসিইউ সাপোর্টের অভাবে এ অঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে মারত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু আশঙ্কা করে বলেন, ‘২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ রোগী ভর্তি থাকে। করোনা সংক্রমণের ভয়ে এখানকার বেশির ভাগ রোগী হাসপাতাল ছেড়ে এখন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ অবস্থায় যদি গুরুতর কোনো করোনা রোগী এখানে আসে তাহলে ভেন্টিলেটর ছাড়া সঠিক চিকিৎসার সক্ষমতা এখানকার ডাক্তারদের নেই। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে যেটুকু চিকিৎসা করা যায়, তা দেওয়া যাবে।’

কুষ্টিয়া হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগী শেষ স্টেজে এসে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভোগে। তখন রোগীকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার জন্য ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়। আমার জানা মতে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের কোনো জেলা হাসপাতালেই আইসিইউর পাশাপাশি ভেন্টিলেটরও নেই। ভেন্টিলেটর আইসিইউয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভেন্টিলেটর কোনো কাজে আসে না।’

কুষ্টিয়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবায় বর্তমানে জেলায় ৪০টি আইসোলেশন বেড ও ১০০টি কোয়ারেন্টিন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যারা বয়স্ক কিংবা ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ আক্রান্ত তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর থাকলে বয়স্ক ও মুমূর্ষু রোগীদের সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব।’

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত কোনো মুমূর্ষু রোগীর ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হলে আমরা তা দিতে অক্ষম। তবে আমরা আশা করছি, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সরকার হয়তো কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জেলা হাসপাতালগুলোতে এসব যন্ত্রপাতি দেবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা