kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

শরণার্থী শিবিরগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শরণার্থী শিবিরগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

জাতিসংঘের হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী শিবিরে বাস করছে ৬৬ লাখ শরণার্থী ও উদ্বাস্তু। গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের থাকতে হয়। তাই করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি বলে অনেকেরই আশঙ্কা।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, পৃথিবীতে প্রতি দুই সেকেন্ডে কেউ না কেউ কোনো না কোনো দেশে অবস্থার কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। আর এই ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী যেকোনো রোগ বিস্তারের ঝুঁকিতে থাকে। যেভাবে গাদাগাদি করে তাদের থাকতে হয় এবং যে ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাতে হয়, তাতে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যেসব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘন ঘন হাত ধোয়া—এসব মেনে চলা শরণার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। এসব শিবিরে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে তার ফল মারাত্মক হবে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের এক ব্যক্তি বলেন, ‘এখনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আমাদের শিবিরে ধরা পড়েনি। কিন্তু তা ছড়াতে শুরু করলে আমার মনে হয় ৮০ শতাংশ সংক্রমণের শিকার হবে। কারণ গাদাগাদি ভিড় এখানে।’

সম্ভাব্য বিপর্যয় : মিয়ানমারে ব্যাপক নির্যাতন ও দমনপীড়ন এড়াতে ২০১৭ সালে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে এবং তাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। কুতুপালং ক্যাম্পে স্বামী, দুই মেয়ে ও তাঁর বোনকে নিয়ে চেকুফা থাকেন তিন মিটার বাই চার মিটার আয়তনের ছোট এক তাঁবুতে। এই আশ্রয়প্রার্থী বলেন, ‘১০টি পরিবারের জন্য এখানে একটি টয়লেট ও একটি বাথরুম। একটি টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে ৫০টি বাসার বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে এখানকার মানুষ এড়াবে কিভাবে?’ চেকুফা বলেন, ‘গত কয়েক দিনে ক্যাম্প চুপচাপ হয়ে গেছে। বাজার, দোকান, মাদরাসা, সব ধরনের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ মাস্ক কিনেছে। আমি শুনেছি, কিছু এনজিও লোকজনকে সাবান দিচ্ছে এবং তাদের শেখাচ্ছে ভাইরাস ঠেকাতে কিভাবে ঠিক করে হাত ধুতে হয়।’

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার আগেও এত বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কুতুপালং বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়শিবির। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা পাঁচ। তার পরও চেকুফা চান তাঁদের শিবিরগুলোতে আরো স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে উদ্বাস্তুরা আশ্বস্ত বোধ করতে পারে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯-এ কেউ আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে না। তবে তারা আইসোলেশনে থাকার জন্য কিছু জায়গার ব্যবস্থা করেছে, যেখানে ৪০০ রোগী আলাদা থাকতে পারবে। তারা আরো এক হাজার বাড়তি বেডের জন্য জায়গা জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

হাসপাতাল শয্যার অভাব : কক্সবাজার জেলায় যেসব হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে কভিড-১৯-এর মতো রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা খুবই সীমিত এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র লুইস ডনোভান বলেন, ‘কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বর্তমানে একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র রয়েছে। এতে আরো নতুন শয্যা যোগ করার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। অন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবাব্যবস্থা আরো বাড়ানোর কাজও হাতে নিয়েছি।’ সংস্থাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ক্যাম্পের মানুষ জানতে পারে কিভাবে করোনাভাইরাসের বিস্তার সীমিত করা সম্ভব। কিন্তু এ উদ্যোগ ভাইরাসের সংক্রমণ শুধু বিলম্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।

কেমন আছে অন্য ক্যাম্পের মানুষ : বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে বসনিয়ার এক শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দারা নিজেদের অনেকটাই নিরাপদ মনে করছে। তারা বলছে, নতুন পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা প্রস্তুত। ইরাক থেকে স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন তরুণী রোজহান (২৮)। ছয় মাস ধরে তিনি আছেন বিহাচ শরণার্থী শিবিরে। রোজহান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে এসেছি। এখন আমাদের সামনে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার ঝুঁকি।’ তিনি জানান, মানুষজন তাঁদের শিবিরে করোনাভাইরাস নিয়ে কথাবার্তা বলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা