kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নমুনা ভাইভা

‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটা পড়েছ?

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমসে বিবিএ-এমবিএ সম্পন্ন করেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ৪০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশ নিই ২০২১ সালের মার্চে। আমার ক্যাডার পছন্দক্রম ছিল—অ্যাডমিন, পুলিশ, কাস্টমস, ইকোনমিক, ট্যাক্স, অডিট, আনসার প্রভৃতি। ভাইভা হয়েছিল ২৫ মিনিটের মতো। আমি যেকোনো ভাইভায় স্যুটের বোতাম লাগিয়ে রুমে প্রবেশ করি। স্যার বসতে বললে স্যুটের বোতাম খুলে তারপরে বসি। রুমে প্রবেশ করে সালাম দিলাম। মাস্ক পরা ছিল, খুলতে বলেননি।

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটা পড়েছ?

তারেক রহমান, প্রশাসন ক্যাডারে চতুুর্থ, ৪০তম বিসিএস

চেয়ারম্যান : You are Tareque Rahman. You are lecturer of Accounting...(৩৭তম বিসিএসে আমি শিক্ষা ক্যাডারে ছিলাম। কিন্তু যোগদান করিনি। উল্লেখ্য, ভাইভার সময় প্রার্থীর তথ্যসংক্রান্ত যে কাগজ চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়, সেখানে পূর্ববর্তী বিসিএসের বিস্তারিত তথ্যও থাকে। )

আমি : Sorry sir. I was recommended as general education cadre. But unfortunatly I didn’t join there. Now I am working as an Assistant Director of DGFI.

(আমি এটা বলার পর এক্সটার্নাল-২ আমার এনওসি দেখলেন।

বিজ্ঞাপন

)

 

চেয়ারম্যান : তুমি ডিজিএফআই-এ আছ? তো বলো, তোমার প্রথম পছন্দ কী?

আমি: জি স্যার, বিসিএস প্রশাসন।

চেয়ারম্যান : বিসিএস প্রশাসন তোমার কেন পছন্দ?

আমি: স্যার, প্রশাসন ক্যাডারকে আমি ভালোবাসি। (শুনে ভাইভা বোর্ডের সবাই হেসে দিলেন)

 

এক্সটার্নাল-১ : তোমার সাবজেক্ট কী?

আমি : অ্যাকাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এক্সটার্নাল-১ : মানি লন্ডারিং কী?

(খুব সুন্দর করে ওভার ইনভয়েসিং,আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের চারটি টার্মসহ মানি লন্ডারিং বুঝিয়ে দিলাম। এরপর এক্সটার্নাল-১ 

ট্রেজারি বন্ড, ওয়েজ আর্নার বন্ড নিয়েও কিছু প্রশ্ন করছেন। সবগুলোর উত্তর দিতে পেরেছি)

 

এক্সটার্নাল-২ : তুমি ডিজিএফআইয়ে জয়েন করেছ আগস্টে, এর আগে কোথায় ছিলে?

আমি : স্যার, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিসার জেনারেল হিসেবে দেড় বছরের মতো চাকরি করেছি।

চেয়ারম্যান : (দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধুর ২টি ছবি দেখতে বললেন) এই দুটো ছবির প্রেক্ষাপট বলো।

আমি : ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার সময়ে তোলার দৃশ্য একটি ছবিতে, অন্যটিতে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসার মুহূর্তে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে দেওয়ার দৃশ্য।  

চেয়ারম্যান : বঙ্গবন্ধু ইংল্যান্ড নেমে সেখানে কী আলোচনা করেছিলেন?

আমি : স্যরি স্যার, আমি ঠিক জানি না। তবে ধারণা করে বলতে পারি। সম্ভবত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়েছিলেন...

চেয়ারম্যান : তুমি কি বঙ্গবন্ধুর ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটা পড়েছ?

আমি : জি স্যার।

চেয়ারম্যান : ওই বইটাতে বঙ্গবন্ধু কী বলেছেন?

আমি : স্যার, নয়াচীনের যে অর্থনৈতিক উত্থান সেটা দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব বিস্মিত হয়েছেন এবং নয়াচীন ভবিষ্যতে সুপারপাওয়ার হবে এটা তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছেন।

চেয়ারম্যান : আর কী?

(আমি চুপ ছিলাম...)।

 

এক্সটার্নাল-২ : বাংলাদেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা কোনটি?

আমি : স্যার, এনএসআই।

(এরপর তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে আরো কিছু প্রশ্ন করেন, যেমন—গোয়েন্দা সংস্থার কাজ কী; র, মোসাদ, সিআইএ কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি। সবগুলোরই উত্তর দিয়েছি। )

এক্সটার্নাল-২ : ব্লকচেইন কী?

আমি: স্যরি স্যার, ধারণা নেই।

এক্সটার্নাল-২: GAVI কী?

আমি: Global Alliance for Vaccine ...

(বলার পর Immunization শব্দটা মনে আসছিল না। কিছুক্ষর পর বলতে পেরেছি)।

 

এক্সটার্নাল-২ আরো কিছু প্রশ্ন করেন। সবশেষে স্যার বললেন, ঠিক আছে, তুমি আসো। সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে সালাম এবং ধন্যবাদ দিয়ে চলে এলাম।

 

     গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

 



সাতদিনের সেরা