kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অফিসার নিয়োগের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাভুক্ত আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৪৭৮ অফিসার (জেনারেল) নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হবে ১৯ আগস্ট ২০২২ (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা)। লিখিত পরীক্ষার আগমুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. রাসেল সরদার ও মো. মাসুদুর রহমান। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অফিসার নিয়োগের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস বা মানবণ্টন নেই। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত থেকে মোট ২০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়েছে। বাংলায় সমসাময়িক বিষয়ের ওপর একটি রচনা থাকে, এর জন্য ২০-২৫ নম্বর। সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী প্রতিবেদন অথবা ব্যাংক সম্পর্কিত দরখাস্ত লিখতে বলা হয়, এখানে ২০ নম্বর।

বিজ্ঞাপন

ইংরেজির ক্ষেত্রে ফোকাস রাইটিং বা রচনা লেখার জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয়গুলো সম্পর্কে ইংরেজিতে শুদ্ধভাবে লেখার দক্ষতা থাকতে হয়। ইংরেজিতে একটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে, এই প্যাসেজের আলোকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়; এর জন্য ২০ নম্বর। অন্যদিকে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বর। আবার ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদও থাকে, সেখানে ২০ নম্বর। আর গণিতের জন্য আগে ৭০-৮০ নম্বরের প্রশ্ন আসত, বর্তমানে ৩৫-৫০ নম্বরের প্রশ্ন আসতে দেখা গেছে। এ ছাড়া টীকা লিখতে হয়, এর জন্য ৩০-৩৫ নম্বর।

 

প্যাসেজের উত্তর প্রশ্নের আলোকে

ইংরেজিতে একটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে। এখান থেকে পাঁচটি প্রশ্ন (২০ নম্বর) থাকে। এর উত্তর লিখতে হয় প্যাসেজের আলোকে। প্যাসেজ পড়ার আগে প্রশ্নগুলো পড়লে ভালো হয়। তাহলে প্যাসেজ পড়ার সময় মাথায় থাকবে কোন কোন তথ্য প্যাসেজ থেকে বের করতে হবে। তারপর প্যাসেজ পড়ে সে আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর করা যেতে পারে। প্যাসেজের প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে অনেকে প্যাসেজ থেকে হুবহু লাইন তুলে দেন। এমনটা না করে প্যাসেজ থেকে তথ্য নিয়ে নিজের ভাষায় সুন্দর শব্দচয়নে গুছিয়ে লিখতে পারলে ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হবে।

 

সমসাময়িক বিষয়ে ফোকাস রাইটিং

পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি ফোকাস রাইটিং বা রচনা লিখতে হয়। সাধারণত সমসাময়িক কোনো একটি বিষয়ের ওপর ফোকাস করে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট তার উত্তর লিখতে হয়। দুটি ফোকাস রাইটিংয়ে মোট বরাদ্দ ৫০ নম্বর। ফোকাস রাইটিং লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ডাটা, চার্ট, কোটেশন ব্যবহার করলে ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হয়। যত পারেন তত ডাটা, গ্রাফ, কোটেশন ব্যবহার করুন। এগুলো আগে থেকে বিষয়ভিত্তিক নোট করে পড়তে পারলে ভালো হয়। ইংরেজির জন্য তিন পৃষ্ঠা এবং বাংলার জন্য চার পৃষ্ঠা লিখতে পারলেই যথেষ্ট! অতিরিক্ত লিখে খাতায় পৃষ্ঠা না বাড়িয়ে পরিমিত গুছিয়ে লিখেই ভালো নম্বর তুলতে পারবেন। সুন্দর শব্দচয়নও গুরুত্বপূর্ণ। নীল কিংবা সবুজ রঙের কলম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাইলাইটস করা যেতে পারে।

 

♦ ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকস—করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখতে সরকারের ভূমিকা/বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কভিড-১৯-এর প্রভাব, এসডিজি, মেট্রো রেল, পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ, কোপ-২৬, রোহিঙ্গা ইস্যু প্রভৃতি। এ ছাড়া অন্যান্য সাম্প্রতিক ইস্যু দেখে যেতে পারেন।  

 

অনুবাদের জন্য ২০-২৫ মিনিট :

পরীক্ষার হলে অনুবাদে ২০-২৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। যদি পরীক্ষার হলে এমন হয় যে অনুবাদ আসছে তা আপনি পারছেন না। তবু চেষ্টা করে কাছাকাছি অর্থ হয় এমনভাবে লিখে আসুন। লিখিত পরীক্ষায় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। লিখিত পরীক্ষার জন্য অনুবাদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। অনুবাদের ভালো প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, অর্থনীতি পাতা ও আন্তর্জাতিক পাতার সংবাদগুলো দেখে অনুশীলন করা যেতে পারে। প্রতিদিন একটি প্যাসেজ হলেও অনুবাদ করার অভ্যাস করা উচিত। অনুবাদের প্রস্তুতির জন্য প্রথমে ব্যাংকের বিগত সালে আসা অনুবাদসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন ও পরে অন্যান্য পরীক্ষার অনুবাদ অনুশীলন করতে পারেন।

 

প্রতিবেদন বা দরখাস্ত যে নিয়মে

ব্যবসায় সম্পর্কিত প্রতিবেদন বা দরখাস্ত লিখতে আসে। এই অংশে অনেকেই পরীক্ষার আগে অনুশীলন না করে যাওয়ায় পরীক্ষার হলে সঠিক ফরম্যাট অনুযায়ী লিখতে পারেন না। অথচ একটু চেষ্টা করলেই এই অংশে নিশ্চিত নম্বর পাওয়া যায়। কেননা অন্যান্য অংশের চেয়ে এই অংশ তুলনামূলক সহজ। এর জন্য বিগত সালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে আসা প্রতিবেদন বা দরখাস্তগুলো দেখে অনুশীলন করুন। মূলত লেখার ফরম্যাট শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকটি ধরনের প্রতিবেদন বা দরখাস্ত লিখতে আসে। তাই সব ধরনের প্রতিবেদন বা দরখাস্ত লেখা অনুশীলন করুন। প্রতিবেদন বা দরখাস্ত এক পৃষ্ঠা লেখাই যথেষ্ট।

 

টীকায় নম্বর পাওয়া সহজ

বর্তমান সময়ে ব্যাংকের চাকরির লিখিত পরীক্ষায় টীকা বা শর্ট নোটস লিখতে আসতে দেখা যায়। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর টীকা লিখতে আসে। সংক্ষিপ্ত আকারে এগুলোর উত্তর দিতে হয়। পরীক্ষায় যেসব বিষয়ের ওপর টীকা আসতে পারে—মুজিববর্ষ, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, পদ্মা সেতু, খেলাপি ঋণ, বন্ড, এজেন্ট ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেল্টা প্ল্যান, রূপকল্প-২০৪১/ভিশন-২০৪১, সমুদ্র অর্থনীতি, অফশোর ব্যাংকিং, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ইত্যাদি।

 

নিয়মিত গণিত অনুশীলন

গণিতে ঠিকঠাক উত্তর করতে পারলে পুরো নম্বর পাওয়া যায়। তাই এই অংশে ভালো করে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে থাকা যায়। গণিতের প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত ভালো মানের এক বা একাধিক বই অনুসরণ করতে পারেন। এ অংশে ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। বিগত সালে বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের অঙ্কগুলো চর্চা নিয়মিত করুন। গণিতের ক্ষেত্রে পরীক্ষার হলে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখুন। এর চেয়ে বেশি সময় যেন না দরকার হয়। গণিতে অতিরিক্ত সময় দিলে অন্যান্য অংশ লেখার জন্য সময় কম পাবেন। গণিতে দুর্বল হলে সবার শেষে উত্তর করাই ভালো।

 

গণিতের ৫০ শতাংশ প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ আসে, একটু মাথা খাটালেই পারা যায়। যাঁরা গণিতে দুর্বল, তাঁরা অন্তত এই সহজ অঙ্কগুলো যেন কোনোভাবেই ভুল না করেন; বাসায় সেভাবেই প্রস্তুতি নিন। গণিত থেকে বেশি নম্বর তোলার মতো আত্মবিশ্বাস না থাকলে অন্যান্য বিষয়ে বাড়তি জোর দিতে হবে, যাতে ভারসাম্য রাখা যায়। গণিতে তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েও অন্যান্য অংশে খুব ভালো করে চাকরি পেয়েছেন, এমন বহু উদাহরণ আছে।



সাতদিনের সেরা